পাদটীকা ও শেষটীকা: কখন কোনটি ব্যবহার করবেন, কীভাবে লিখবেন
পাদটীকা প্রতিটি পাতার নিচে বসে, শেষটীকা অধ্যায় বা লেখার শেষে; দুটিতেই সূত্র বা ব্যাখ্যা থাকে। বাংলাদেশে একক জাতীয় রীতি নেই, তাই বিভাগের নির্দেশিকা মানুন।
পাদটীকা ও শেষটীকা কী
পাদটীকা (ইংরেজিতে footnote) হলো লেখার যে অংশ সংশ্লিষ্ট পাতার একেবারে নিচে, একটি ছোট রেখার তলায় ছাপা হয়। শেষটীকা (endnote) একই কাজ করে, তবে পাতার নিচে না বসে বসে অধ্যায়ের শেষে বা পুরো লেখার শেষে। মূল পাঠে বসানো একটি ছোট ক্রমিক সংখ্যা (১, ২, ৩ অথবা 1, 2, 3) পাঠককে টীকার কাছে নিয়ে যায়।
টীকার কাজ দুই রকম:
- সূত্রনির্দেশ। কোন বই, প্রবন্ধ, আইন বা নথি থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে তা জানানো।
- ব্যাখ্যামূলক মন্তব্য। মূল আলোচনায় ঢোকালে প্রবাহ ভেঙে যেত, এমন অতিরিক্ত তথ্য, শব্দের অর্থ, ভিন্নমত বা অনুবাদের টীকা।
পাদটীকা আর শেষটীকার পার্থক্য কেবল অবস্থানের। পাদটীকায় পাঠক পাতা না উল্টিয়েই সূত্র দেখেন, শেষটীকায় পাতা পরিষ্কার থাকে কিন্তু সূত্র দেখতে শেষে যেতে হয়।
কোনটি কখন বেছে নেবেন
| বিবেচনা | পাদটীকা | শেষটীকা |
|---|---|---|
| পাঠকের সুবিধা | সূত্র চোখের সামনে | পাতা উল্টাতে হয় |
| পাতার চেহারা | টীকা বেশি হলে পাতা ভারী | মূল পাঠ পরিষ্কার |
| সাধারণ ব্যবহার | ইতিহাস, আইন, সাহিত্য ও মানবিক বিভাগের থিসিস | বই, ছোট প্রবন্ধ, কিছু প্রকাশনা |
| দীর্ঘ ব্যাখ্যামূলক টীকা | অসুবিধাজনক | তুলনামূলক সুবিধাজনক |
এটি সাধারণ প্রবণতা মাত্র; নিয়ম নয়। কিছু বিভাগ পাদটীকা চায়, কিছু শেষটীকা, আর অনেক বিভাগ টীকাই চায় না, বরং বন্ধনীর ভেতরে লেখক ও সাল দিয়ে সূত্র (যেমন APA, Harvard স্টাইলে) এবং শেষে গ্রন্থতালিকা চায়।
একটি সৎ কথা: বাংলাদেশে একক জাতীয় স্টাইল নেই
ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষার থিসিসেই সূত্র দেওয়ার কোনো একক জাতীয় মান আমরা যাচাই করা অবস্থায় পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয়, অনুষদ এমনকি বিভাগ ও তত্ত্বাবধায়কভেদে রীতি বদলায়। সাধারণভাবে দেখা যায়:
- মানবিক ও ইতিহাস ঘরানায় পাদটীকাভিত্তিক স্টাইল (যেমন Chicago-এর নোট-ও-গ্রন্থপঞ্জি রীতি) প্রচলিত।
- সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় ও শিক্ষা গবেষণায় প্রায়ই লেখক-সাল স্টাইল (APA বা Harvard) চলে।
- প্রকৌশল ও প্রযুক্তিতে ক্রমিক সংখ্যার স্টাইল (যেমন IEEE) দেখা যায়।
এই প্রবণতাগুলোও সব জায়গায় খাটে না। আপনার বিভাগের থিসিস-নির্দেশিকা বা তত্ত্বাবধায়কের কথাই চূড়ান্ত। নির্দেশিকা না থাকলে তত্ত্বাবধায়ককে জিজ্ঞেস করুন, আর একবার যা বেছে নিলেন পুরো লেখায় তা-ই মানুন।
টীকা কখন দরকার, কখন নয়
টীকা দিন যখন:
- সরাসরি উদ্ধৃতি দিচ্ছেন বা অন্যের তথ্য-যুক্তি নিজের ভাষায় বলছেন।
- আইন, ধারা, সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আদালতের রায়ের সূত্র দিচ্ছেন।
- বিদেশি শব্দ, পরিভাষা বা অনূদিত অংশের ব্যাখ্যা দেওয়া দরকার।
- মূল যুক্তির পাশাপাশি একটি সংক্ষিপ্ত অতিরিক্ত তথ্য দিতে চান।
টীকা সংখ্যায় পরিমিত রাখুন। প্রতি বাক্যে একটি করে টীকা বসালে পাঠক বিরক্ত হন। একটি অনুচ্ছেদের একই উৎস থেকে নেওয়া একাধিক তথ্যের জন্য অনুচ্ছেদের শেষে একটি টীকা দেওয়াই সাধারণ রীতি।
বাংলা উৎস কীভাবে টীকায় আসে
বাংলা বইয়ের লেখকের নাম বাংলায়ই লিখুন, নামের ক্রম ঠিক রেখে। নোট স্টাইলে সাধারণত নাম স্বাভাবিক ক্রমে (নাম, পদবি) বসে, আর গ্রন্থতালিকায় পদবি আগে। বাংলা নামে পদবি সবসময় স্পষ্ট নয়, তাই বইয়ের প্রচ্ছদে যেভাবে আছে সেভাবেই লিখুন এবং পুরো লেখায় একই রীতি রাখুন।
নিচের নমুনাগুলো বানানো। বই, লেখক ও প্রকাশকের নাম কাল্পনিক, কেবল কাঠামো বোঝানোর জন্য। বাস্তব উৎসের তথ্য প্রচ্ছদ ও শিরোনাম-পাতা থেকে মিলিয়ে নিন।
বই (প্রথম উল্লেখ):
১. রহিমা আক্তার, উপকূলের মানুষ ও জীবিকা (ঢাকা: কাল্পনিক প্রকাশনী, ২০১৮), পৃ. ৪৫।
বইয়ের অধ্যায়:
২. করিম হোসেন, "গ্রামীণ বাজারের বদল," বাংলাদেশের গ্রামসমাজ, সম্পা. সালমা বেগম (ঢাকা: কাল্পনিক প্রকাশনী, ২০১৫), পৃ. ১২২-১২৩।
পত্রিকা বা জার্নালের প্রবন্ধ:
৩. নাসরিন সুলতানা, "মাধ্যমিক শিক্ষায় ডিজিটাল উপকরণ," শিক্ষা ও সমাজ গবেষণা ৭, সংখ্যা ২ (২০২২): ৩৪।
এখানে "পৃ." পৃষ্ঠা বোঝায়, "সম্পা." সম্পাদক। কিছু বিভাগ "পৃষ্ঠা" পুরো লেখে বা "দ্র." ব্যবহার করে; বিভাগের রীতি মানুন। সংখ্যা বাংলা (১, ২, ৩) না ইংরেজি (1, 2, 3) হবে, তাও নির্দেশিকা অনুযায়ী ঠিক করুন, তবে একবার বেছে নিলে সারা লেখায় একই রাখুন।
ইংরেজি ও বাংলা উৎস মিশে গেলে দুই ভাষার উৎসই একই কাঠামোয় সাজান এবং বাংলা শিরোনাম বাংলা হরফেই রাখুন। আলাদা বিধি না থাকলে রোমান বর্ণান্তর জোর করে বানাবেন না।
সংক্ষিপ্ত টীকা, ibid. ও পুনরুল্লেখ
একই উৎস বারবার এলে প্রথমবার পুরো সূত্র, পরের বার সংক্ষিপ্ত রূপ দেওয়ার রীতি আছে:
৫. আক্তার, উপকূলের মানুষ ও জীবিকা, ৫২।
কিছু বিভাগ লাতিন সংক্ষেপ শেখায়, যেমন ibid. (পূর্বোক্ত একই উৎস), op. cit. ও loc. cit.। আধুনিক নির্দেশিকাগুলো অনেক ক্ষেত্রে এগুলো এড়িয়ে সংক্ষিপ্ত টীকাকে বেশি পছন্দ করে, কারণ মাঝখানে টীকা যোগ-বিয়োগ হলে ibid. ভুল জায়গা দেখায়। আপনার নির্দেশিকা কী বলে দেখুন। বাংলায় "পূর্বোক্ত" বা "ওই" শব্দও কোথাও চলে, তবে তা বিভাগের রীতির ওপর নির্ভর করে।
ওয়ার্ড ও গুগল ডক্সে ধাপে ধাপে
আপনার সফটওয়্যারের ভাষা ও সংস্করণ ভেদে মেনুর নাম সামান্য বদলাতে পারে, তবু ধাপগুলো মোটামুটি এক।
মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (ডেস্কটপ):
- যেখানে টীকার সংখ্যা বসাবেন, সেখানে কার্সর রাখুন।
- References (রেফারেন্স) ট্যাবে যান।
- পাদটীকার জন্য Insert Footnote, শেষটীকার জন্য Insert Endnote চাপুন।
- পাতার নিচে (বা শেষে) আসা ঘরে টীকা লিখুন।
- ক্রম ও সংখ্যার ধরন বদলাতে Footnotes গ্রুপের ডায়ালগ খুলে নম্বরিং ফরম্যাট বেছে নিন।
ওয়ার্ড টীকার সংখ্যা নিজে গুছিয়ে দেয়; মাঝখানে টীকা যোগ বা বাদ দিলে ক্রম আপনা-আপনি হালনাগাদ হয়, তাই হাতে সংখ্যা বসাবেন না।
গুগল ডক্স:
- কার্সর রেখে Insert (সন্নিবেশ) মেনুতে যান।
- Footnote (পাদটীকা) বেছে নিন।
- পাতার নিচের ঘরে টীকা লিখুন।
গুগল ডক্সে সাধারণত পাদটীকা সহজে মেলে। শেষটীকার জন্য আলাদা সরাসরি বিকল্প নেই বলে অনেকে ডকুমেন্টের শেষে নিজের হাতে ক্রমিক তালিকা বানান। ওয়ার্ডের ভিন্ন সংস্করণ বা স্মার্টফোন অ্যাপে ধাপ কিছু আলাদা হতে পারে।
সাধারণ ভুল
- একই লেখায় দুই স্টাইল মেশানো। কোথাও পাদটীকা, কোথাও বন্ধনীতে সাল।
- টীকার সংখ্যা বিরামচিহ্নের আগে বসানো। কোন বিভাগে সংখ্যা যতিচিহ্নের আগে বসবে না পরে, তা নির্দেশিকায় দেখুন, কিন্তু পুরো লেখায় একই নিয়ম রাখুন।
- টীকায় বড় প্রবন্ধ লেখা। দীর্ঘ আলোচনা মূল পাঠে আনুন।
- উৎসের তথ্য অসম্পূর্ণ রাখা। পৃষ্ঠা, সাল বা প্রকাশক বাদ পড়লে পাঠক উৎস খুঁজে পান না।
টীকার চেকলিস্ট
- আমার বিভাগ কি পাদটীকা, শেষটীকা, নাকি বন্ধনীর সূত্র চায়?
- নির্দিষ্ট স্টাইল (যেমন Chicago নোট, APA, IEEE) নির্দেশিকা থেকে মিলিয়েছি?
- প্রতিটি টীকায় লেখক, শিরোনাম, প্রকাশের তথ্য ও পৃষ্ঠা আছে?
- সংখ্যার ধরন (বাংলা না ইংরেজি) পুরো লেখায় এক?
- টীকাগুলো ওয়ার্ডের টীকা-সুবিধা দিয়ে বানানো, হাতে নয়?
- বড় ব্যাখ্যা কি মূল পাঠে আনা হয়েছে?
- গ্রন্থতালিকা বা রেফারেন্স তালিকার সঙ্গে টীকা মিলছে?
AdeptWrite-এর টুল দিয়ে কীভাবে সাহায্য নেবেন
- সাইটেশন জেনারেটর APA 7, MLA 9, Chicago, Harvard ও IEEE স্টাইলে রেফারেন্স ও ইন-টেক্সট সাইটেশন সাজিয়ে দেয়। এটি আপনার ব্রাউজারেই চলে। বাংলা উৎসের ক্ষেত্রে স্টাইলের সংযোজক শব্দ (যেমন "পৃ." বা "সম্পা.") ইংরেজি রূপে আসতে পারে, তাই ফলাফল আপনার বিভাগের নির্দেশিকার সঙ্গে মিলিয়ে হাতে ঠিক করে নিন।
- টীকা বা ব্যাখ্যার বাক্য আড়ষ্ট হলে বাক্য সংশোধন টুলে সহজ করে দেখতে পারেন।
- টীকাসহ পুরো খসড়ার জন্য বাংলা বানান চেকার ও বাংলা গ্রামার চেকার চালিয়ে ভুল ধরে নিন; পরামর্শ নিজে দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
- প্লেজারিজম চেকার উন্মুক্ত অনলাইন উৎসের সঙ্গে মিল খুঁজে দেখায়। এটি সূত্র ঠিকমতো দেওয়া হয়েছে কি না নিশ্চিত করে না, শুধু মিলের জায়গাগুলো দেখায়; সিদ্ধান্ত আপনার।
প্রতিবার একটি চালে সর্বোচ্চ ৬,০০০ অক্ষর পর্যন্ত লেখা দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন
সূত্রের তালিকার ধরন নিয়ে পড়ুন গ্রন্থপঞ্জি ও রেফারেন্স তালিকার পার্থক্য, উৎস চেনার জন্য প্রাথমিক ও গৌণ উৎস, আর সূত্র না দেওয়ার ঝুঁকি বুঝতে চৌর্যবৃত্তি কী ও চৌর্যবৃত্তি এড়ানোর উপায়।
টুলগুলো ব্যবহার করুন
সচরাচর জিজ্ঞাসা
পাদটীকা আর শেষটীকার মূল পার্থক্য কী?
পাদটীকা প্রতিটি পাতার নিচে বসে, শেষটীকা অধ্যায় বা পুরো লেখার শেষে। কাজ একই: সূত্র বা অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়া। পাদটীকায় পাঠক সঙ্গে সঙ্গে সূত্র দেখেন, শেষটীকায় পাতা পরিষ্কার থাকে। কোনটি চলবে তা আপনার বিভাগের নির্দেশিকা ঠিক করে।
বাংলা থিসিসে কি পাদটীকা বাধ্যতামূলক?
না। বাংলাদেশে সব বিভাগের জন্য একক জাতীয় নিয়ম নেই। কোনো বিভাগ পাদটীকা চায়, কেউ শেষটীকা, কেউ বন্ধনীতে লেখক-সাল স্টাইল। তত্ত্বাবধায়ক বা বিভাগের থিসিস-নির্দেশিকা দেখে একটি রীতি বেছে পুরো লেখায় একই রাখুন।
ibid. কি এখনও ব্যবহার করা হয়?
কিছু বিভাগ এখনও শেখায়, তবে আধুনিক নির্দেশিকাগুলো অনেক ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত টীকাকে বেশি পছন্দ করে, কারণ মাঝখানে টীকা বদলালে ibid. ভুল উৎস দেখায়। আপনার বিভাগ কী চায় তা নির্দেশিকায় দেখে নিন; না থাকলে তত্ত্বাবধায়ককে জিজ্ঞেস করুন।
বাংলা বইয়ের সূত্র পাদটীকায় কীভাবে লিখব?
লেখকের নাম বইয়ের প্রচ্ছদে যেমন আছে তেমন লিখুন, তারপর বইয়ের নাম, প্রকাশনা স্থান, প্রকাশক, সাল ও পৃষ্ঠা। কোনো স্টাইলে কমা বা বন্ধনী কোথায় বসে তা নির্ধারিত স্টাইল-নির্দেশিকা অনুযায়ী মিলিয়ে নিন এবং পুরো লেখায় একই রাখুন।
সম্পর্কিত গাইড
- গ্রন্থপঞ্জি, তথ্যসূত্র ও সহায়ক গ্রন্থ: পার্থক্য কী এবং কোনটি কখন দেবেন — তথ্যসূত্রে থাকে শুধু লেখায় উল্লেখ করা উৎস। গ্রন্থপঞ্জিতে থাকে বিষয়ের জন্য প্রাসঙ্গিক সব বই ও প্রবন্ধ। কোন নাম ও বিন্যা…
- প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎসের পার্থক্য: বিষয়ভিত্তিক উদাহরণ ও সূত্র দেওয়ার নিয়ম — প্রাথমিক উৎস হলো মূল নথি বা সরাসরি সংগ্রহ করা তথ্য, যেমন সংবিধান ও জরিপের মূল সারণি। মাধ্যমিক উৎস তার বিশ্লেষণ, যেমন পাঠ…
- প্লেজিয়ারিজম কী? চৌর্যবৃত্তির অর্থ, ধরন ও বাংলা উদাহরণ — প্লেজিয়ারিজম (চৌর্যবৃত্তি বা সাহিত্যচুরি) মানে অন্যের লেখা বা ভাবনা উৎস না জানিয়ে নিজের বলে চালানো: হুবহু টোকা, শব্দ ব…
- প্লেজিয়ারিজম এড়ানোর ১০টি উপায়: ছাত্রছাত্রীদের জন্য — প্লেজিয়ারিজম এড়াতে শুরু থেকেই উৎস টুকে রাখুন: হুবহু শব্দে উদ্ধৃতি চিহ্ন, নিজের ভাষায় লিখলেও সূত্র, অনুবাদেও মূল লেখকে…
- থিসিস স্টেটমেন্ট (কেন্দ্রীয় বক্তব্য) কী এবং কীভাবে লিখবেন: সূত্র, নমুনা ও চেকলিস্ট — থিসিস স্টেটমেন্ট বা কেন্দ্রীয় বক্তব্য হলো পুরো লেখার মূল দাবি, এক-দুই বাক্যে লেখা। এটি তথ্য নয়, বরং এমন অবস্থান যার বি…