বাংলা প্লেজারিজম চেকার (চৌর্যবৃত্তি যাচাই)

আপনার লেখার কোন অংশ উন্মুক্ত উৎসের সঙ্গে মেলে তা খুঁজে দেখুন, আর ঠিক কোন কোন উৎসে খোঁজা হয়েছে তাও জানুন।

মোড
0 শব্দ · 0 অক্ষর
Ctrl/⌘ + Enter
মিলের হার, মিলে যাওয়া অংশ আর যেসব উৎসে খোঁজা হয়েছে তার তালিকা এখানে দেখা যাবে।

আপনার লেখা কখনো জমা রাখা হয় না। মূল সুবিধাগুলো চিরকাল বিনামূল্যে। অনুসন্ধানের উৎসগুলোতে আপনার লেখার কেবল ছোট ছোট স্বতন্ত্র শব্দগুচ্ছ পাঠানো হয় — পুরো লেখা নয়, আর কিছুই জমা রাখা হয় না।

সারসংক্ষেপ

অ্যাডেপ্টরাইটের প্লেজারিজম চেকার আপনার লেখার বাক্যাংশ উইকিপিডিয়া, উইকিসংকলন ও গবেষণার উন্মুক্ত উৎসে খোঁজে। কমপক্ষে ৩০ শব্দ বসালে স্কোর, চিহ্নিত অংশ ও খোঁজা উৎসের তালিকা পাবেন। ০% মানে মিল মেলেনি, মৌলিকতার প্রমাণ নয়। ফলাফলে যে অংশ মিলেছে সেটি হাইলাইট থাকে এবং উৎসের লিংকে গিয়ে নিজে মিলিয়ে দেখা যায়। উদ্ধৃতি দিলে সূত্র লেখা আপনার দায়িত্ব। বন্ধ বা পেওয়ালের ভেতরের উৎস এই টুল দেখে না, তাই এটি চূড়ান্ত রায় নয়, প্রাথমিক পরীক্ষা হিসেবে কাজে লাগান।

ব্যবহারের নিয়ম প্লেজারিজম চেকার (চৌর্যবৃত্তি যাচাই)

  1. লেখা বসান: কমপক্ষে ৩০ শব্দ, প্রতিবারে সর্বোচ্চ ৬,০০০ অক্ষর। লেখার ভাষা "বাংলা" বাছুন বা স্বয়ংক্রিয় শনাক্তে রাখুন।
  2. মোড বাছুন: "উন্মুক্ত উৎস", অথবা যে পরিকল্পনায় আছে সেখানে "উন্মুক্ত উৎস + ওয়েব সার্চ"।
  3. যাচাই করুন চাপুন। টুল লেখা থেকে কয়েকটি স্বাতন্ত্র্যসূচক বাক্যাংশ বেছে উৎসগুলোয় খোঁজে।
  4. স্কোর, চিহ্নিত অংশ ও খোঁজা উৎসের তালিকা দেখুন। মিলে যাওয়া অংশে উদ্ধৃতিচিহ্ন ও সূত্র যোগ করুন, অথবা নিজের ভাষায় নতুন করে লিখুন।

আগে ও পরে

আগে
বসানো লেখা: ঢাকার ইতিহাস নিয়ে একজন শিক্ষার্থীর একটি অনুচ্ছেদ, যার দ্বিতীয় অর্ধেক বাংলা উইকিপিডিয়ার নিবন্ধের একটি অংশ প্রায় হুবহু নেওয়া।
পরে
মিল: আনুমানিক ৪০% (২২০ শব্দের মধ্যে ৮৮ শব্দ)। মিলে যাওয়া উৎস: বাংলা উইকিপিডিয়া, সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ, আপনার লেখায় চিহ্নিত অংশসহ। খোঁজা উৎস: উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট আর্কাইভ, Europe PMC, DOAJ, উইকিসংকলন।

টীকা: এটি দেখানোর জন্য সাজানো উদাহরণ, কোনো আসল যাচাইয়ের ফল নয়; সংখ্যা কাল্পনিক। স্কোর = মেলা শব্দ ÷ মোট শব্দ, তাই হুবহু নেওয়া বাক্য স্কোর বাড়ায় আর আপনার নিজের বাক্য কমায়।

সুবিধা ও মোড

উপলব্ধ মোড: উন্মুক্ত উৎস · উন্মুক্ত উৎস + ওয়েব সার্চ

  • খোঁজা উৎসের তালিকা — প্রতিটি ফলাফলের সঙ্গে দেখা যায় কোন উৎসে খোঁজা হয়েছে আর কোনটি সাড়া দেয়নি বা বাদ গেছে, ফলে পরিষ্কার ফলাফল পড়তে হয় সেই প্রেক্ষাপটে।
  • মিলে যাওয়া অংশ চিহ্নিত — লেখার মিলে যাওয়া অংশ হাইলাইট হয় এবং সংশ্লিষ্ট উৎসের পাতায় লিংক থাকে।
  • উন্মুক্ত উৎস ভিত্তি — লেখার ভাষার উইকিপিডিয়া ও উইকিসংকলন, ইন্টারনেট আর্কাইভের পূর্ণপাঠ খোঁজ, Europe PMC, DOAJ; ইংরেজি একাডেমিক লেখায় arXiv-ও।
  • ঐচ্ছিক ওয়েব সার্চ — "উন্মুক্ত উৎস + ওয়েব সার্চ" মোড যে পরিকল্পনায় আছে সেখানে খোলা ওয়েবেও খোঁজে; না থাকলে মোডটি লুকানো থাকে।
  • পুরো লেখা পাঠানো হয় না — শুধু ৪–৮টি ছোট বাক্যাংশ উৎসে যায়; আপনার পুরো লেখা ব্রাউজারেই থাকে।

যাঁদের জন্য

অ্যাসাইনমেন্ট ও থিসিস জমার আগে
শিক্ষকের হাতে যাওয়ার আগে নিজেই দেখে নিন কোন অনুচ্ছেদ কোনো উৎস থেকে সূত্র ছাড়া চলে এসেছে কি না।
প্যারাফ্রেজ করার পর
নিজের ভাষায় নতুন করে লেখার পর দেখুন অনুচ্ছেদটি এখনো মূল লেখার কাছাকাছি কি না।
ব্লগার, সম্পাদক ও কনটেন্ট দল
ফ্রিল্যান্সারের জমা দেওয়া লেখা বা নিজের খসড়ায় উন্মুক্ত নিবন্ধ থেকে নেওয়া অংশ খুঁজে বের করুন।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা লেখা
ইংরেজি উৎস থেকে অনুবাদ করে সূত্র না দিলে সেটিও চৌর্যবৃত্তি হতে পারে; লেখায় সূত্র যোগ করে নিন।

প্লেজারিজম বা চৌর্যবৃত্তি কাকে বলে?

অন্যের লেখা বা ভাবনাকে নিজের বলে চালানোই প্লেজারিজম: উদ্ধৃতিচিহ্ন ছাড়া হুবহু তোলা, শব্দ সামান্য বদলে প্রায় একই বাক্য লেখা, কিংবা সূত্র না দিয়ে কারও ভাবনা ব্যবহার করা। সূত্র দিলেই অনেকখানি হুবহু নকল জায়েজ হয় না। ছোট উদ্ধৃতি উদ্ধৃতিচিহ্নে বসে, বাকি অংশ হতে হবে নিজের ভাষায় এবং সূত্রসহ। ধারণা আরও বিস্তারিত জানতে প্লেজিয়ারিজম কী গাইড দেখুন।

ফলাফল পড়বেন কীভাবে?

ফলমানেকরণীয়
অল্প মিল, ছোট বাক্যাংশনাম, শিরোনাম বা চালু বাক্যাংশ মিলেছেসাধারণত সমস্যা নয়
একটি বাক্য বা অনুচ্ছেদ উৎসের কাছাকাছিসূত্র ছাড়া নেওয়া হয়ে থাকতে পারেউদ্ধৃতিচিহ্ন ও সূত্র দিন, অথবা নিজের ভাষায় লিখুন
০%খোঁজা উৎসে মিল পাওয়া যায়নিমৌলিকতার প্রমাণ ধরবেন না

স্কোর দেখায় কোথায় মিল আছে, কেন আছে তা নয়। নাম, উদ্ধৃত অংশ আর "বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ"-এর মতো চালু বাক্যাংশ সৎ লেখাতেও মিলে যায়। তাই সংখ্যাটিকে কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

মিল ধরা পড়লে কী করবেন?

  1. সত্যিই উদ্ধৃতি হলে উদ্ধৃতিচিহ্ন দিন এবং সাইটেশন জেনারেটর দিয়ে সূত্র বানান।
  2. বেশি কাছাকাছি হলে উৎসটি বন্ধ করে স্মৃতি থেকে নিজের ভাষায় লিখুন; শুধু সমার্থক শব্দ বদলানো যথেষ্ট নয়। কৌশল জানতে বাংলায় প্যারাফ্রেজ করার নিয়ম পড়ুন, আর খসড়ায় সাহায্য নিতে প্যারাফ্রেজ টুল ব্যবহার করুন।
  3. আবার যাচাই করে দেখুন মিল কমেছে কি না।
  4. লেখা এআই দিয়ে তৈরি হতে পারে বলে সন্দেহ হলে আলাদা, স্পষ্টভাবে "অনুমান" লেবেলযুক্ত ফলের জন্য এআই ডিটেক্টর দেখুন।

জমার আগে

শেষ রাতে নয়, খসড়া অবস্থাতেই যাচাই চালান। আরও জানতে প্লেজিয়ারিজম এড়ানোর উপায় ও বাংলা লেখার প্লেজিয়ারিজম চেক গাইড পড়ুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারের ফল এই টুলের ফলের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।

সীমাবদ্ধতা, খোলাখুলি

যাচাই কীভাবে কাজ করে

  1. টুল লেখা থেকে ৪ থেকে ৮টি স্বাতন্ত্র্যসূচক বাক্যাংশ (প্রতিটি প্রায় আট শব্দের) বেছে নেয়; উদ্ধৃতি, তালিকা আর শিরোনাম বাদ দেয়।
  2. শুধু ওই বাক্যাংশগুলো উৎসগুলোয় পাঠানো হয়; আপনার পুরো লেখা ব্রাউজারেই থাকে।
  3. কোনো বাক্যের সাত-শব্দের ক্রমগুলোর বেশির ভাগ উৎসে পাওয়া গেলে, অথবা উৎসের সঙ্গে আট শব্দের একটানা মিল থাকলে বাক্যটি চিহ্নিত হয়।
  4. স্কোর = মেলা শব্দ ÷ মোট শব্দ।

কোন উৎসে খোঁজা হয়

লেখার ভাষার উইকিপিডিয়া ও উইকিসংকলন, ইন্টারনেট আর্কাইভের পূর্ণপাঠ খোঁজ, Europe PMC, DOAJ এবং ইংরেজি একাডেমিক লেখায় arXiv। যেখানে সাইটে সংযুক্ত আছে সেখানে OpenAlex যোগ হয়। ঐচ্ছিক ওয়েব মোড যে পরিকল্পনায় আছে সেখানে খোলা ওয়েবে খোঁজে। ফলাফলে দেখা যায় কোন কোন উৎস সাড়া দিয়েছে।

বাংলার ক্ষেত্রে বিশেষ সীমা

উন্মুক্ত উৎসে বাংলা বিষয়বস্তু ইংরেজির চেয়ে কম। বাংলা সংবাদপত্র, ব্লগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নোট, কোচিং-গাইড আর বহু বাংলা বই এই উৎসগুলোর বাইরে। তাই বাংলা লেখায় "মিল নেই" ফলাফলের মানে ইংরেজির চেয়েও সীমিত।

যা পারে না

  • পেওয়ালের ভেতরের জার্নাল, অধিকাংশ বই বা শিক্ষার্থীদের জমা-দেওয়া অভিসন্দর্ভের ভান্ডার খোঁজে না, তাই এটি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যাচাই-ব্যবস্থার বিকল্প নয়।
  • বাক্যাংশের নমুনা নিয়ে খোঁজে, ফলে হুবহু নেওয়া অংশ ফসকে যেতে পারে।
  • ০% স্কোর মানে খোঁজা উৎসগুলোয় মিল মেলেনি; লেখা মৌলিক তা প্রমাণ নয়।
  • কেউ ইচ্ছা করে চুরি করেছে কি না, টুল তা বলতে পারে না।

সীমা

প্রতিবারে কমপক্ষে ৩০ শব্দ, সর্বোচ্চ ৬,০০০ অক্ষর। বিনামূল্যের পরিকল্পনায় দৈনিক সীমা আছে; বিস্তারিত মূল্য ও পরিকল্পনা পাতায়।

  • অনুসন্ধানের উৎসগুলোতে আপনার লেখার কেবল ছোট ছোট স্বতন্ত্র শব্দগুচ্ছ পাঠানো হয় — পুরো লেখা নয়, আর কিছুই জমা রাখা হয় না।
  • মিল মানে শব্দের মিল, উদ্দেশ্যের প্রমাণ নয়। সূত্রসহ উদ্ধৃতি প্লেজারিজম নয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্লেজারিজম চেকার কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ, অ্যাকাউন্ট ছাড়াই বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়, বিনামূল্যের পরিকল্পনায় দৈনিক একটি সীমা আছে। প্রতিবার কমপক্ষে ৩০ শব্দ আর সর্বোচ্চ ৬,০০০ অক্ষর। ওয়েব সার্চ মোড সব পরিকল্পনায় নাও থাকতে পারে।

কোন কোন উৎসে খোঁজা হয়?

লেখার ভাষার উইকিপিডিয়া ও উইকিসংকলন, ইন্টারনেট আর্কাইভের পূর্ণপাঠ খোঁজ, Europe PMC, DOAJ এবং ইংরেজি একাডেমিক লেখায় arXiv। যেখানে সংযুক্ত সেখানে OpenAlex। প্রতিটি ফলাফলে বাস্তবে খোঁজা উৎসের তালিকা দেওয়া থাকে।

এটি কি টার্নিটিনের মতো ভালো?

না, এবং এমন দাবি আমরা করি না। পেওয়ালের জার্নাল, অধিকাংশ বই ও অভিসন্দর্ভের ভান্ডার এই টুল দেখে না, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা দেখে। একে জমার আগে উন্মুক্ত উৎসে দ্রুত যাচাই হিসেবে ব্যবহার করুন।

০% মিল মানে কি লেখা মৌলিক?

না। এর মানে আপনার লেখা থেকে বেছে নেওয়া বাক্যাংশের নমুনায় খোঁজা উৎসগুলোয় মিল মেলেনি। লেখাটি কোনো বই, পেওয়ালের প্রবন্ধ, বাংলা সংবাদপত্র বা অন্য শিক্ষার্থীর কাজের সঙ্গে মিলতে পারে, যা টুল দেখতে পায় না।

বাংলা লেখায় কি এটি ভালো কাজ করে?

উন্মুক্ত উৎসে বাংলা বিষয়বস্তু ইংরেজির চেয়ে কম, তাই পরিষ্কার ফলের মানে সীমিত। বাংলা উইকিপিডিয়া ও উইকিসংকলনের মিল ধরা পড়বে, কিন্তু সংবাদপত্র, ব্লগ বা কোচিং-নোটের মিল ওয়েব মোড ছাড়া নাও ধরতে পারে।

আমার লেখা কি সংরক্ষণ বা শেয়ার করা হয়?

না। উৎসে শুধু ৪–৮টি ছোট বাক্যাংশ পাঠানো হয়, পুরো লেখা নয়; পুরো লেখা আপনার ব্রাউজারেই থাকে, জমা হয় না।

মিলের স্কোর কীভাবে কমাব?

হুবহু অংশে উদ্ধৃতিচিহ্ন ও সূত্র দিন, বেশি কাছাকাছি অনুচ্ছেদ স্মৃতি থেকে নিজের ভাষায় নতুন করে লিখে সূত্র দিন। শুধু কয়েকটি শব্দ বদলানো যথেষ্ট নয়। তারপর আবার যাচাই করে দেখুন।

সম্পর্কিত গাইড

বিনামূল্যে প্লেজারিজম চেকার (চৌর্যবৃত্তি যাচাই) ব্যবহার করুন
লেখা পেস্ট করুন, মোড বেছে নিন, শেষ। সাইন-আপ লাগে না।
প্লেজারিজম যাচাই করুন