বানান ও ব্যাকরণ

বাংলা যতিচিহ্ন: দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ সব চিহ্নের ব্যবহার, উদাহরণ ও ভুল

AdeptWrite সম্পাদকীয় দলহালনাগাদ 25 মিনিটের পাঠ

বাংলা বাক্য শেষ হয় দাঁড়ি (।) দিয়ে, ফুলস্টপ (.) বা পাইপ (|) দিয়ে নয়। প্রশ্ন ও বিস্ময়ের শেষে ? আর ! বসে, তখন দাঁড়ি লাগে না। চিহ্নের আগে ফাঁকা নয়, পরে একটি ফাঁকা। শুদ্ধ-অশুদ্ধ উদাহরণ নিচের সারণিতে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

বাংলায় বাক্যের শেষে বসে দাঁড়ি (।), ইংরেজি ফুলস্টপ (.) নয়। প্রশ্নের শেষে প্রশ্নচিহ্ন (?) এবং বিস্ময় বা আবেগের শেষে বিস্ময়চিহ্ন (!) বসে। এই দুটির পরে আলাদা করে দাঁড়ি দিতে হয় না। বাক্যের ভেতরের বিরতির জন্য আছে কমা (,), সেমিকোলন (;) ও কোলন (:)। প্রতিটি যতিচিহ্ন তার আগের শব্দের গায়ে লেগে বসে, আর পরে থাকে একটি ফাঁকা জায়গা।

এই লেখায় আছে বাংলা লেখার সব প্রচলিত চিহ্নের একটি সারণি, প্রতিটির শুদ্ধ ও অশুদ্ধ উদাহরণ, উদ্ধৃতিচিহ্ন আর ড্যাশ-হাইফেনের পার্থক্য, কম্পিউটার ও ফোনে । লেখার উপায়, এবং পাঠানোর আগে মিলিয়ে দেখার একটি তালিকা।

একটি কথা শুরুতেই পরিষ্কার করা ভালো। বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম মূলত শব্দের বানান নিয়ে। যতিচিহ্ন বসানোর বেশির ভাগ রীতি আসে ব্যাকরণ-বইয়ের প্রচলিত নিয়ম এবং প্রকাশনা ও সংবাদপত্রের নিজস্ব স্টাইল থেকে। তাই কিছু ক্ষেত্রে (বিশেষ করে উদ্ধৃতিচিহ্নে) একাধিক রীতি চালু আছে। যেখানে এমন ভিন্নতা আছে, নিচে তা খোলাসা করে বলা হয়েছে। আপনার প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকের নির্দেশিকা থাকলে সেটিই চূড়ান্ত।

যতিচিহ্ন বলতে কী বোঝায়

যতিচিহ্ন হলো লেখায় থামার জায়গা, সুর ও বাক্যের গঠন বোঝানোর চিহ্ন। পড়ার সময় কোথায় থামতে হবে, কোন বাক্য প্রশ্ন আর কোন অংশ উদ্ধৃতি, তা এই চিহ্নগুলোই বলে দেয়। বাংলা ব্যাকরণ-বইয়ে এগুলোকে কখনো যতিচিহ্ন, কখনো ছেদচিহ্ন বলা হয়। প্রচলিত ধারণায় বাক্যের শেষ বোঝানো চিহ্নগুলো (দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন) ছেদ, আর বাক্যের ভেতরের ছোট বিরতির চিহ্নগুলো (কমা, সেমিকোলন, কোলন) যতি নামে পরিচিত। পরীক্ষায় এই শ্রেণিভাগ জানা দরকার হলে আপনার পাঠ্যবইয়ের সংজ্ঞাই মানুন।

এক নজরে সব চিহ্ন: সারণি

চিহ্ননামকোথায় বসেশুদ্ধ উদাহরণসাধারণ ভুল
।দাঁড়িবিবৃতি ও আদেশমূলক বাক্যের শেষেআমি কাল ঢাকা যাব।আমি কাল ঢাকা যাব.
?প্রশ্নচিহ্নপ্রশ্নের শেষেতুমি কোথায় থাকো?তুমি কোথায় থাকো?।
!বিস্ময়চিহ্নআবেগ, বিস্ময়, ডাকের শেষেকী সুন্দর সকাল!কী সুন্দর সকাল!!! (বারবার)
,কমাতালিকা, সম্বোধন, অতিরিক্ত অংশের পাশেরুমি, লিপি ও মিতা এসেছে।রুমি লিপি, ও মিতা এসেছে।
;সেমিকোলনস্বাধীন অথচ সম্পর্কিত দুই অংশের মাঝেসে চেষ্টা করেছে; ফল পায়নি।সে চেষ্টা করেছে ; ফল পায়নি।
:কোলনতালিকা, ব্যাখ্যা বা উদ্ধৃতির আগেউপকরণ: চাল, ডাল, লবণ।উপকরণ : চাল, ডাল, লবণ।
‘ ’ বা “ ”উদ্ধৃতিচিহ্নঅন্যের কথা বা শব্দের উদ্ধৃতিতেতিনি বললেন, “আমি আসছি।”তিনি বললেন, "আমি আসছি।" (সরল ইংরেজি উদ্ধৃতি)
— বা –ড্যাশব্যাখ্যা, বিরতি বা ব্যাপ্তি বোঝাতেঢাকা — দেশের রাজধানী।ঢাকা-দেশের রাজধানী।
-হাইফেনজোড়া শব্দ ও পুনরুক্তিতেসুখ-দুঃখ, ধীরে-ধীরেসুখ - দুঃখ
( )বন্ধনীঅতিরিক্ত তথ্য বা বিকল্পবাংলা একাডেমি (ঢাকা)বাংলা একাডেমি ( ঢাকা )
... বা …বিলোপচিহ্নঅসমাপ্ত বা বাদ দেওয়া অংশেতারপর... কী হলো?তারপর.... কী হলো?

সারণির ডানের কলামের ভুলগুলো এলোমেলো টাইপিংয়ে বা ইংরেজি অভ্যাস থেকে খুব সহজে ঢুকে পড়ে। নিচে একে একে প্রতিটি দেখা যাক।

দাঁড়ি (।): বাংলা বাক্যের নিজস্ব শেষচিহ্ন

বাংলায় সাধারণ বিবৃতি, আদেশ ও অনুরোধের বাক্য দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়। দাঁড়ির কোড ইউনিকোডের U+0964, নাম "দেবনাগরী দাঁড়ি"। বাংলা লেখা ইউনিকোডে এই একই চিহ্নই ব্যবহার করে।

শুদ্ধ: ভোরে উঠে আমরা নদীর ধারে গেলাম। অশুদ্ধ: ভোরে উঠে আমরা নদীর ধারে গেলাম. অশুদ্ধ: ভোরে উঠে আমরা নদীর ধারে গেলাম|

শেষ ভুলটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কিবোর্ডের পাইপ চিহ্ন (|) দেখতে দাঁড়ির মতো, কিন্তু সেটি আলাদা অক্ষর। এতে ফন্ট বদলালে চেহারা বদলে যায়, সার্চে ও টেক্সট-প্রক্রিয়াকরণে বাক্যের শেষ ঠিকমতো ধরা পড়ে না। AdeptWrite-এর বাংলা ইঞ্জিনেও এর জন্য একটি যান্ত্রিক নিয়ম আছে (bn-danda): বাংলা শব্দের পরে "." বা "|" দেখলে সেটিকে । দিয়ে বদলানোর পরামর্শ দেয়।

কয়েকটি বিষয় মনে রাখুন:

  • দাঁড়ির আগে ফাঁকা নয়, পরে একটি ফাঁকা।
  • প্রশ্নচিহ্ন বা বিস্ময়চিহ্নের পরে দাঁড়ি বসে না। "তুমি কোথায় যাচ্ছ?" ঠিক; "তুমি কোথায় যাচ্ছ?।" ভুল।
  • কবিতা ও শ্লোকে কখনো দ্বিগুণ দাঁড়ি (॥, U+0965) থাকে, তবে সাধারণ গদ্যে তা লাগে না।
  • সংক্ষেপ বা ইংরেজি শব্দের ডটে ফুলস্টপ (.) থাকতে পারে, যেমন "ড. রহমান"। সেখানে এটি দাঁড়ির বিকল্প নয়, সংক্ষেপের অংশ।
  • সংখ্যার দশমিকে বিন্দু (.) বসে: ৩.৫ বা 3.5। এখানে দাঁড়ি চলে না।

প্রশ্নচিহ্ন (?) ও বিস্ময়চিহ্ন (!)

প্রশ্নচিহ্ন বসে সরাসরি প্রশ্নের শেষে। পরোক্ষ প্রশ্নে সাধারণত বসে না।

  • সরাসরি: সে কখন আসবে?
  • পরোক্ষ: আমি জানতে চেয়েছি সে কখন আসবে।

বিস্ময়চিহ্ন আবেগ, চমক বা ডাকে ব্যবহার করুন: "আরে, তুমি এসেছ!" আনুষ্ঠানিক লেখায়, যেমন দরখাস্ত, প্রতিবেদন বা থিসিসে, বিস্ময়চিহ্ন প্রায় লাগেই না। একসঙ্গে একাধিক ! বা ? (যেমন !!! বা ?!) চ্যাট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে, কিন্তু ছাপা বা পেশাদার লেখায় এড়ানো ভালো।

বাংলা প্রশ্নে "কি" ও "কী"-র ভেদও দেখুন। হ্যাঁ-না প্রশ্নের শুরু বা মাঝের অব্যয় হলো "কি" (তুমি কি যাবে?), আর কোন জিনিস বা কেমন তা জানতে চাইলে "কী" (তুমি কী খাবে?)। এই ভেদ বানানের নিয়মের অংশ, তবে প্রশ্নচিহ্নের সঙ্গে প্রায়ই একসঙ্গে ভুল হয়।

কমা (,): সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত, সবচেয়ে বেশি ভুল হওয়া চিহ্ন

কমা তালিকা, সম্বোধন, বাক্যের মাঝের বাড়তি অংশ এবং সংখ্যার ভাগে বসে। বাংলা কমার ১০টি নিয়ম আলাদা উদাহরণসহ আছে আমাদের বাংলায় কমার নিয়ম গাইডে। এখানে শুধু সারকথা:

  • তালিকার উপাদানের মাঝে কমা, শেষ দুটির মাঝে সাধারণত "ও" বা "এবং": আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচু।
  • সম্বোধনের পরে কমা: করিম ভাই, একটু শুনুন।
  • "কিন্তু", "তবে", "অথচ" দিয়ে বিপরীত অংশ জোড়ার আগে কমা: সে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি।

সেমিকোলন (;)

সেমিকোলন কমার চেয়ে জোরালো বিরতি, দাঁড়ির চেয়ে নরম। যেসব স্বাধীন অংশ আলাদা বাক্য হতে পারত অথচ ভাবের দিক থেকে খুব কাছাকাছি, সেগুলোর মাঝে এটি বসে।

শুদ্ধ: বৃষ্টি থামেনি; তাই খেলা শুরু হলো না। অশুদ্ধ: বৃষ্টি থামেনি ; তাই খেলা শুরু হলো না।

আধুনিক বাংলা গদ্যে সেমিকোলন তুলনামূলক কম দেখা যায়। অনেক লেখক এর জায়গায় কমা বা দাঁড়ি ব্যবহার করেন, এবং তা ভুল নয়। দীর্ঘ তালিকায়, যেখানে প্রতিটি উপাদানের ভেতরেই কমা আছে, সেমিকোলন পাঠককে সাহায্য করে।

উদাহরণ: সভায় এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেহানা বেগম, বাংলা বিভাগ; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহিদ হাসান, ইংরেজি বিভাগ; এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শামীম আরা, ইতিহাস বিভাগ। (নামগুলো কাল্পনিক উদাহরণ।)

কোলন (:) ও কোলন-ড্যাশ

কোলন বসে তালিকা, ব্যাখ্যা বা উদ্ধৃতি শুরুর আগে। বাংলা বই ও পত্রিকায় কোলনের আগে ফাঁকা না রেখে পরে একটি ফাঁকা রাখাই সাধারণ রীতি।

শুদ্ধ: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র, দুই কপি ছবি ও আবেদনপত্র।

কিছু পুরনো ছাপায় তালিকার আগে কোলনের সঙ্গে ড্যাশ (:–) দেখা যায়। এখন সরল কোলনই বেশি চলে। একটি লেখায় একই রীতি ধরে রাখুন।

কোলন সময়েও আসে: ১০:৩০। পরিচিত বাংলা সময়-লেখায় "সকাল ১০টা ৩০ মিনিট" ব্যবহৃত হয়, ডিজিটাল ঘড়ি বা সূচিতে ১০:৩০ চলে।

উদ্ধৃতিচিহ্ন: একক না দ্বৈত?

বাংলায় উদ্ধৃতি চিহ্নিত করার দুটি ধারা প্রচলিত। অনেক সংবাদপত্র ও প্রকাশনা প্রধান উদ্ধৃতিতে একক চিহ্ন (‘ ’) রাখে, ভেতরের উদ্ধৃতিতে দ্বৈত (“ ”)। আবার অনেক বই ও একাডেমিক লেখায় প্রধান উদ্ধৃতিতে দ্বৈত চিহ্নই চলে। AdeptWrite-এর বাংলা ইঞ্জিনের উদ্ধৃতিচিহ্ন-নিয়ম দ্বৈত “ ” জোড়াকে মানদণ্ড ধরে। আপনার প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকা অন্য কিছু বললে তা মানুন।

নিয়ম একটাই: একটি লেখায় একই রীতি ধরে রাখুন আর খোলা-বন্ধ জোড়া মেলান।

শুদ্ধ: শিক্ষক বললেন, “আগামীকাল পরীক্ষা হবে।” শুদ্ধ (একক রীতিতে): শিক্ষক বললেন, ‘আগামীকাল পরীক্ষা হবে।’ অশুদ্ধ: শিক্ষক বললেন, "আগামীকাল পরীক্ষা হবে।"

শেষ উদাহরণে সোজা ইংরেজি উদ্ধৃতিচিহ্ন (") ব্যবহার হয়েছে। এগুলো টাইপরাইটারের যুগের সরল চিহ্ন, বাংলা ছাপায় বাঁকা চিহ্নই মানানসই। অনেক সফটওয়্যার আপনা থেকে সোজা চিহ্নকে বাঁকা করে নেয়, কিন্তু চ্যাট বা প্লেইন টেক্সটে তা ঘটে না।

দাঁড়ির অবস্থান নিয়ে নিয়ম: উদ্ধৃতি যদি পূর্ণ বাক্য হয়, দাঁড়ি উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে বসে (…আসছি।”)। উদ্ধৃতিটি যদি বড় বাক্যের একটি অংশমাত্র হয়, দাঁড়ি বসে বন্ধ-চিহ্নের পরে।

  • ভেতরে: তিনি বললেন, “আমি আসছি।”
  • বাইরে: তিনি সবাইকে ‘ভাই’ বলেই ডাকেন।

শব্দ বা বইয়ের নামে জোর দিতে একক বা দ্বৈত চিহ্ন, কখনো বাঁকা হরফ (ইটালিক) ব্যবহার হয়। বইয়ের নাম নিয়ে আপনার উদ্ধৃতি-রীতি (APA, MLA, হার্ভার্ড) আলাদা নিয়ম দিলে তা অনুসরণ করুন।

ড্যাশ (—) আর হাইফেন (-): দুটি আলাদা চিহ্ন

দুটিকে এক ভাবা বাংলা লেখার খুব পরিচিত ভুল।

হাইফেন (-) ছোট রেখা। এটি শব্দকে জোড়ে, শব্দের মাঝে ফাঁকা থাকে না:

  • দ্বন্দ্ব সমাসের জোড়া: সুখ-দুঃখ, দিন-রাত, ভাই-বোন, আসা-যাওয়া
  • পুনরুক্তি: ধীরে-ধীরে, বড়-বড়, ঘরে-ঘরে
  • পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, লাভ-ক্ষতি-জাতীয় বিপরীত জোড়
  • শব্দ ভাঙতে বা ঠিকানায়: ঢাকা-১২০৫

কোন জোড়া শব্দ হাইফেনসহ, কোনটি মিলিয়ে, কোনটি আলাদা লেখা হবে, সে প্রশ্ন বানানের নিয়মের অন্তর্গত। এ নিয়ে দেখুন বাংলা বানানের নিয়ম।

ড্যাশ (—) লম্বা রেখা। এটি বাক্যের মাঝে ব্যাখ্যা, হঠাৎ বিরতি বা অতিরিক্ত তথ্য বোঝায়:

  • ব্যাখ্যা: ঢাকা — দেশের রাজধানী — বছরের এই সময়ে বেশ ব্যস্ত থাকে।
  • হঠাৎ থেমে যাওয়া: আমি ভেবেছিলাম — যাক, বাদ দাও।
  • ব্যাপ্তি (সাধারণত একটু ছোট এন-ড্যাশ): ১০–১৫ মিনিট, ২০২৫–২০২৬

ড্যাশের দুই পাশে ফাঁকা রাখা না-রাখা প্রকাশনাভেদে আলাদা। বাংলা পত্রিকায় ফাঁকাসহ ড্যাশ বেশি দেখা যায়। যে রীতিই নিন, পুরো লেখায় একই রাখুন।

শুদ্ধ: সুখ-দুঃখ জীবনের অংশ। অশুদ্ধ: সুখ — দুঃখ জীবনের অংশ। (এখানে ড্যাশ নয়, হাইফেন লাগবে) অশুদ্ধ: ঢাকা-দেশের রাজধানী। (ব্যাখ্যায় ড্যাশ লাগবে, হাইফেন নয়)

বন্ধনী, বিলোপচিহ্ন ও অন্যান্য চিহ্ন

বন্ধনী ( ): অতিরিক্ত তথ্য, প্রতিশব্দ বা সংক্ষেপ দিতে ব্যবহার করুন। খোলার পরে ও বন্ধ করার আগে ফাঁকা নেই। তৃতীয় বন্ধনী [ ] সাধারণত উদ্ধৃতির ভেতরে নিজের যোগ করা শব্দ বোঝাতে লাগে। দ্বিতীয় বন্ধনী { } মূলত গণিত ও কোডে চলে।

বিলোপচিহ্ন (... বা …): তিনটি বিন্দু, বেশি নয়। ফাঁকা রাখার রীতি লেখাভেদে ভিন্ন, তবে চার বা পাঁচটি বিন্দু এড়ান। একাডেমিক উদ্ধৃতিতে মূল লেখার কোনো অংশ বাদ দিলে সেখানে বিলোপচিহ্ন বসে।

ফরোয়ার্ড স্ল্যাশ (/): বিকল্প বা তারিখে: ১২/১১/২০২৬। বাংলা বাক্যের শেষে এর কোনো কাজ নেই।

বিন্দু (.): সংক্ষেপ, ইংরেজি শব্দ, দশমিক সংখ্যা ও ওয়েবসাইট ঠিকানায় ঠিক আছে, তবে বাংলা বাক্যের শেষে নয়।

ফাঁকা জায়গার সহজ নিয়ম

যতিচিহ্ন নিয়ে ভুল অর্ধেকের বেশি আসে ফাঁকা জায়গা থেকে। একটি সহজ সূত্র:

অবস্থানিয়মশুদ্ধঅশুদ্ধ
বন্ধ-চিহ্নের আগে (। , ; : ? !)ফাঁকা নয়আমি যাব।আমি যাব ।
চিহ্নের পরেএকটি ফাঁকাআমি যাব, তুমি থাকো।আমি যাব,তুমি থাকো।
বন্ধনীর ভেতরফাঁকা নয়(ঢাকা)( ঢাকা )
হাইফেনদুই পাশে ফাঁকা নয়সুখ-দুঃখসুখ - দুঃখ
দুটি ফাঁকা পরপরকখনো নয়আমি যাব।আমি যাব।

AdeptWrite-এর বাংলা ইঞ্জিনে ফাঁকা নিয়ে তিনটি যান্ত্রিক নিয়ম আছে: দ্বিগুণ ফাঁকা, চিহ্নের আগে ফাঁকা এবং চিহ্নের পরে ফাঁকার অভাব। ভুল বসলে সেগুলো ধরা পড়ে।

বাংলা দাঁড়ি (।) টাইপ করবেন কীভাবে

বাংলায় লেখার সময় দাঁড়ি টাইপ করার সহজ উপায় আপনার ইনপুট পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট কী-র অবস্থান সফটওয়্যারের সংস্করণ ও কিবোর্ড লেআউটভেদে বদলায়, তাই নিচের নির্দেশনা সাধারণ দিক মাত্র। নিজের কিবোর্ডে একবার পরীক্ষা করে নিন।

  • ফোন: বাংলা কিবোর্ড (যেমন গুগলের জিবোর্ডের বাংলা, কিংবা বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন কিবোর্ড অ্যাপ) সাধারণত বিরামচিহ্নের পাতায় । রাখে। বাংলা মোডে "." বা সংখ্যা/চিহ্নের পাতা খুললে দাঁড়ি দেখা যায়।
  • ফোনেটিক সফটওয়্যার (যেমন অভ্র): সাধারণত ইংরেজি "." (ফুলস্টপ) কী চাপলেই বাংলা দাঁড়ি বসে, এটি এই ধরনের কিবোর্ডের পরিচিত আচরণ। সংস্করণভেদে আচরণ আলাদা হতে পারে।
  • বিজয় বা অন্যান্য ফিক্সড লেআউট: দাঁড়ির জন্য নির্দিষ্ট কী আছে। লেআউট-চার্ট দেখে নিন।
  • কপি-পেস্ট: শেষ উপায় হিসেবে এই লেখা থেকে । কপি করে বসিয়ে নিতে পারেন। কোড হিসেবে এটি U+0964।

একটি সহজ পরীক্ষা: ডকুমেন্টে টাইপ করা চিহ্নটি ফন্ট বদলে বা বড় করে দেখুন। ফন্ট বদলালে যদি চিহ্নটির চেহারা বা উচ্চতা অন্যরকম হয়ে যায়, তাহলে হয়তো পাইপ (|) বসেছে। বাংলা দাঁড়ি সাধারণত বাংলা ফন্টের নিজস্ব নকশায় আঁকা থাকে, তাই ফন্টভেদে এর চেহারা কিছুটা বদলায়।

ওয়েব ফর্ম বা সিস্টেম "." চাইলে কিংবা বাংলা সফটওয়্যারে না মিললে অগত্যা "." দিন, তবে ছাপা বা পাঠানো লেখায় শুদ্ধ চিহ্নটিই রাখুন।

শুদ্ধ আর অশুদ্ধ: আস্ত অনুচ্ছেদ দিয়ে পরীক্ষা

অশুদ্ধ রূপ:

আমি কাল ঢাকা গিয়েছিলাম.সেখানে আমার বন্ধু রিয়ার সাথে দেখা হলো | সে বলল "তুমি কি আজ থাকবে ?" আমি বললাম "না,কাল সকালেই ফিরব".

শুদ্ধ রূপ:

আমি কাল ঢাকা গিয়েছিলাম। সেখানে আমার বন্ধু রিয়ার সঙ্গে দেখা হলো। সে বলল, “তুমি কি আজ থাকবে?” আমি বললাম, “না, কাল সকালেই ফিরব।”

কী কী বদলেছে:

  1. শেষ-চিহ্ন . ও | বদলে হয়েছে ।
  2. দাঁড়ির পরে ফাঁকা এসেছে, আগের ফাঁকা গেছে।
  3. "বলল"-এর পরে উদ্ধৃতির আগে কমা বসেছে।
  4. সোজা উদ্ধৃতিচিহ্ন বাঁকা হয়েছে।
  5. "থাকবে ?" থেকে ফাঁকা সরে গিয়ে "থাকবে?" হয়েছে।
  6. উদ্ধৃতির ভেতরের বাক্যের দাঁড়ি উদ্ধৃতিচিহ্নের মধ্যে ঢুকেছে।
  7. "সাথে" বদলে "সঙ্গে" হয়েছে, এটি যতিচিহ্ন নয়, শব্দ বাছাইয়ের ব্যাপার; দুটি রূপই চালু, তবে আনুষ্ঠানিক লেখায় "সঙ্গে" বেশি মানানসই।

স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মক্ষেত্রে কোথায় কী খেয়াল রাখবেন

  • এসএসসি-এইচএসসি স্তরের লেখা (রচনা, ভাবসম্প্রসারণ, সারাংশ): পরীক্ষকের চোখ সাধারণত দাঁড়ি, কমা ও প্রশ্নচিহ্নের ভুলে সহজে আটকে যায়। উত্তরপত্রে হাতে লেখার সময় দাঁড়ি স্পষ্ট দিন, বিন্দুর মতো না করে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট ও থিসিস: বিভাগের নির্দেশিকা অনুযায়ী উদ্ধৃতিচিহ্ন ও সূত্র দেখান। ইংরেজি সূত্রের বাক্যে ইংরেজি চিহ্ন, বাংলা বাক্যে বাংলা চিহ্ন, এই পার্থক্য রাখুন।
  • দরখাস্ত, কভার লেটার, অফিসের ইমেইল: ছোট, পরিচ্ছন্ন বাক্য, কম বিস্ময়চিহ্ন, ঠিকঠাক ফাঁকা। কভার লেটারের ফরম্যাট ও পেশাদার ইমেইল লেখা গাইডে এর প্রসঙ্গ আছে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া ও চ্যাট: এখানে চিহ্ন আলগা হলেও চলে, কিন্তু ব্যবসার পেজ বা পেশাদার পোস্টে দাঁড়ির বদলে "." দিলে ছাপ পড়ে অযত্নের।
  • ইংরেজি-মেশানো লেখা: একই বাক্যে বাংলা ও ইংরেজি থাকলে বাক্যের শেষ-চিহ্ন বাংলা বাক্যের নিয়মে চলে, অর্থাৎ ।।

পাঠানোর আগে ১০টি প্রশ্নের তালিকা

  • প্রতিটি বাক্যের শেষে ।, ? বা ! আছে কি?
  • কোথাও "." বা "|" থেকে গেছে কি, যা ।-এর জায়গায় বসা উচিত?
  • চিহ্নের আগে অকারণ ফাঁকা নেই তো? চিহ্নের পরে একটি ফাঁকা আছে তো?
  • প্রশ্নচিহ্নের পরে দাঁড়ি বসেনি তো?
  • উদ্ধৃতিচিহ্নের জোড়া মিলেছে? একই রীতি আছে?
  • হাইফেন আর ড্যাশ ঠিক জায়গায় আছে?
  • কমা তালিকা, সম্বোধন ও বাড়তি অংশে ঠিকমতো বসেছে?
  • দুটি ফাঁকা পাশাপাশি নেই তো?
  • বাংলা ও ইংরেজি সংখ্যা একই লেখায় মিশে যায়নি তো?
  • শেষবার জোরে পড়ে দেখেছেন কি, যেখানে থামছেন সেখানে চিহ্ন আছে?

AdeptWrite-এর টুল দিয়ে যাচাই

  • বাংলা গ্রামার চেকার বাংলা ও অন্যান্য ভাষার ব্যাকরণ, বানান ও যতিচিহ্নের ভুল শুধরাতে সাহায্য করে, প্রতিটি বদল আলাদা রঙে দেখায়। এটি এআই-ভিত্তিক সংশোধন, তাই প্রতিটি পরামর্শ নিজে পড়ে নিন।
  • বাংলা বানান চেকার আপনার ব্রাউজারেই চলে। বাংলা একাডেমির নিয়মে সাজানো বানান-জোড়া, একটি বাংলা হান্সপেল শব্দভান্ডার আর কিছু যান্ত্রিক নিয়ম মিলিয়ে পরামর্শ দেয়, যার মধ্যে আছে দাঁড়ি, চিহ্নের আশপাশের ফাঁকা, দ্বিগুণ ফাঁকা ও য়/ড়/ঢ় এনকোডিংয়ের পরীক্ষা। কী ও কি-র মতো অর্থনির্ভর বিষয়ে এটি কেবল ইঙ্গিত দেয়।
  • বাংলা ওয়ার্ড কাউন্টার লেখার শব্দ ও বাক্য গুনে অনুচ্ছেদের মাপ বোঝাতে সাহায্য করে।

টুলে একবারে সর্বোচ্চ ৬,০০০ অক্ষর দেওয়া যায়। টুল সহায়ক মাত্র। কোনো চিহ্ন না ধরলে তা নির্ভুল, এমন নিশ্চয়তা নেই। শেষ বিচারে আপনার শিক্ষক, সম্পাদক বা প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকাই মূল্যবান।

আরও পড়ুন

কমা বসানোর ১০টি নিয়ম দেখুন বাংলায় কমা কখন বসবে গাইডে। শব্দের বানান নিয়ে পড়ুন বাংলা বানানের নিয়ম। লেখার ভঙ্গি নিয়ে আছে আনুষ্ঠানিক ও ঘরোয়া বাংলা লেখা। একই ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে প্রায় একই রকম শব্দ ও তাদের পার্থক্য গাইডটিও কাজে লাগবে।

টুলগুলো ব্যবহার করুন

বাংলা গ্রামার চেকার (ব্যাকরণ চেক)
বাংলা ও অন্যান্য ভাষার ব্যাকরণ, বানান আর যতিচিহ্নের ভুল শুধরে নিন; প্রতিটি বদল আলাদা রঙে দেখানো হয়।
টুল খুলুন
বাংলা বানান চেকার (প্রমিত বানান)
টাইপো আর অপ্রমিত বানান (যেমন বাড়ী → বাড়ি) ধরে সংশোধনের পরামর্শ দেয়, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম মেনে — যাচাই চলে আপনার ব্রাউজারেই।
টুল খুলুন
বাংলা ওয়ার্ড কাউন্টার (শব্দ ও অক্ষর গণনা)
শব্দ, অক্ষর, বাক্য আর পড়ার সময় এক নজরে গুনে ফেলুন।
টুল খুলুন
বাক্য সংশোধন ও পুনর্লিখন
আড়ষ্ট, জট পাকানো বা অগোছালো বাক্য সহজ ও সাবলীল করে লিখুন।
টুল খুলুন

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাংলায় বাক্যের শেষে কি ফুলস্টপ (.) দেওয়া যায়?

বাংলা বাক্যের শেষে প্রমিত চিহ্ন হলো দাঁড়ি (।), ইউনিকোড U+0964। ফুলস্টপ চ্যাটে চলতে পারে, কিন্তু পরীক্ষা, দরখাস্ত ও ছাপা লেখায় দাঁড়িই দিন। সংক্ষেপে (যেমন ড.) ও দশমিক সংখ্যায় বিন্দু ঠিক আছে, সেটি দাঁড়ির বিকল্প নয়।

প্রশ্নচিহ্নের পরে কি দাঁড়ি দিতে হয়?

না। প্রশ্নচিহ্ন (?) ও বিস্ময়চিহ্ন (!) নিজেই বাক্যের শেষ বোঝায়, তাই তাদের পরে আলাদা দাঁড়ি বসে না। "তুমি কোথায় যাচ্ছ?" শুদ্ধ, "তুমি কোথায় যাচ্ছ?।" ভুল। উদ্ধৃতির ভেতরের প্রশ্নেও একই নিয়ম।

বাংলায় উদ্ধৃতিচিহ্ন একক (‘ ’) হবে না দ্বৈত (“ ”)?

দুটি রীতিই প্রচলিত। অনেক পত্রিকা প্রধান উদ্ধৃতিতে একক এবং ভেতরের উদ্ধৃতিতে দ্বৈত চিহ্ন রাখে, আবার অনেক বইয়ে দ্বৈতই চলে। আপনার প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকা মানুন, না থাকলে একটি রীতি বেছে পুরো লেখায় একই রাখুন। সোজা (") চিহ্ন এড়ান।

কিবোর্ডে বাংলা দাঁড়ি (।) কীভাবে লিখব?

ফোনের বাংলা কিবোর্ডে সাধারণত বিরামচিহ্নের পাতায় । পাওয়া যায়। অভ্রের মতো ফোনেটিক সফটওয়্যারে ইংরেজি ফুলস্টপ কী চাপলে দাঁড়ি বসে, তবে সংস্করণভেদে আচরণ আলাদা হতে পারে। না পেলে কপি-পেস্ট করুন; চিহ্নটির ইউনিকোড U+0964।

সব গাইড