চাকরি ও ক্যারিয়ার

কভার লেটারের ফরম্যাট: বিন্যাস, দৈর্ঘ্য, শেষ লাইন ও কপি করার মতো নমুনা

AdeptWrite সম্পাদকীয় দলহালনাগাদ 8 মিনিটের পাঠ

ভালো কভার লেটার সাধারণত এক পৃষ্ঠার: তারিখ, প্রাপক, বিষয়, সম্বোধন, কেন এই পদ ও কেন আপনি, আর বিনয়ী সমাপ্তি। সরকারি দরখাস্তে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ মেনে দাপ্তরিক কাঠামো ব্যবহার করুন।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: কভার লেটারের ফরম্যাট কেমন হবে

কভার লেটার হলো সিভির সঙ্গে পাঠানো একটি ছোট চিঠি, যেখানে আপনি বলেন কোন পদের জন্য আবেদন করছেন, কেন পদটি আপনার কাজের সঙ্গে মেলে, আর কীভাবে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। বাংলাদেশে বেসরকারি কোম্পানি, এনজিও বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে আবেদনের ক্ষেত্রে এই ফরম্যাটই সবচেয়ে নিরাপদ:

  1. এক পৃষ্ঠা, তিন থেকে চারটি অনুচ্ছেদ।
  2. ওপরে তারিখ এবং প্রাপকের পদবি ও প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা।
  3. বিষয় লাইন, যেখানে পদের নাম (এবং বিজ্ঞপ্তিতে রেফারেন্স নম্বর থাকলে তা) লেখা।
  4. সম্বোধন: নাম জানা থাকলে নাম ধরে, না জানলে "সম্মানিত নিয়োগকর্তা" বা "জনাব/জনাবা"।
  5. মূল অংশ: কেন এই পদ, কেন আপনি, কী নিয়ে আসবেন।
  6. সমাপ্তি: ধন্যবাদ, সাক্ষাৎকারের আগ্রহ, তারপর "বিনীত" বা "ধন্যবাদান্তে" এবং নাম, ফোন, ইমেইল।

সরকারি দপ্তরের চাকরির আবেদন আলাদা ধাঁচের। সেখানে সাধারণত "বরাবর", "বিষয়", "মহোদয়", "সবিনয় নিবেদন এই যে" এবং "নিবেদক" দিয়ে সাজানো দাপ্তরিক দরখাস্ত লাগে। দুটির পার্থক্য এই লেখার নিচের দিকে একটি টেবিলে দেওয়া আছে। সবচেয়ে বড় কথা: চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের পদ্ধতি, ফরম্যাট বা সংযুক্তি নিয়ে যা লেখা আছে, তা এই গাইডের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ আগে, গাইডের পরামর্শ পরে।

কভার লেটার কেন লাগে, আর সিভি থেকে এটি কীভাবে আলাদা

সিভি আপনার অতীতের তালিকা: শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা। কভার লেটার সেই তালিকা থেকে বেছে নিয়ে একটি যুক্তি দাঁড় করায়: "এই পদে আমাকে কেন ভাবা যায়।" তাই সিভির লাইন হুবহু চিঠিতে তুলে দিলে চিঠির কাজ হয় না। চিঠিতে দুই-তিনটি প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা বেছে নিন এবং পদের চাহিদার সঙ্গে সেগুলোর যোগ দেখান।

অনেক নিয়োগকর্তা আজকাল ইমেইলে আবেদন নেন। সে ক্ষেত্রে ইমেইলের মূল অংশই কভার লেটার হিসেবে কাজ করতে পারে, আবার আলাদা PDF হিসেবেও সংযুক্ত করা যায়। কোনটি চাওয়া হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন। সিভি তৈরির নিয়ম আলাদা গাইডে আছে: বাংলাদেশে সিভির ফরম্যাট। কভার লেটার লেখার ধাপগুলো দেখতে চাইলে পড়ুন বাংলাদেশে কভার লেটার কীভাবে লিখবেন।

বিন্যাস: ওপর থেকে নিচে কী কোথায় বসবে

১. প্রেরকের তথ্য

নিজের নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল এবং চাইলে শহর বা এলাকার নাম দিন। পুরো বাসার ঠিকানা সবসময় দরকার হয় না; ডাকযোগে বা হাতে হাতে জমা দিলে ঠিকানা দেওয়া ভালো। ইমেইল ঠিকানা পেশাদার রাখুন: নিজের নামের ভিত্তিতে, ডাকনাম বা সংখ্যার জটলা ছাড়া।

২. তারিখ

বাংলায় লিখলে "১৫ নভেম্বর ২০২৬" বা "১৫/১১/২০২৬" দুটোই চলে। পুরো চিঠিতে একই ধরন রাখুন। সংখ্যা বাংলা অঙ্কে লিখবেন না ইংরেজি অঙ্কে, তা ঠিক করে একই রীতি মেনে চলুন।

৩. প্রাপকের ঠিকানা

পদবি, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং ঠিকানা লিখুন। প্রাপকের নাম বিজ্ঞপ্তিতে বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে থাকলে তা-ই ব্যবহার করুন। নাম খুঁজে না পেলে "ব্যবস্থাপক, মানবসম্পদ বিভাগ" ধরনের পদবি যথেষ্ট।

৪. বিষয় লাইন

একটি লাইনে পদের নাম: "বিষয়: সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপণন) পদের জন্য আবেদন"। বিজ্ঞপ্তিতে কোড বা রেফারেন্স থাকলে বন্ধনীতে যোগ করুন। ইমেইলে আবেদন করলে এই লাইনটিই সাবজেক্ট হয়ে যেতে পারে।

৫. সম্বোধন

নাম জানলে: "জনাব রহমান," বা "জনাবা সুলতানা,"। নাম না জানলে: "সম্মানিত নিয়োগকর্তা,"। বাংলায় "প্রিয়" দিয়ে শুরু করা চাকরির আবেদনে মানায় না। সম্বোধন ও শেষ লাইনের আরও রীতির জন্য দেখুন ইমেইল কীভাবে শেষ করবেন।

৬. মূল অংশ: তিনটি অনুচ্ছেদ

অনুচ্ছেদকাজপ্রায় দৈর্ঘ্য
প্রথমকোন পদ, কোথায় বিজ্ঞপ্তি দেখেছেন, এক বাক্যে আপনি কে২–৩ বাক্য
দ্বিতীয়পদের চাহিদার সঙ্গে আপনার সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ২–৩টি অভিজ্ঞতা বা কাজ৪–৬ বাক্য
তৃতীয়কেন এই প্রতিষ্ঠান, আপনি কী দিতে পারবেন, সাক্ষাৎকারের আগ্রহ২–৪ বাক্য

৭. সমাপ্তি ও স্বাক্ষর

"সময় দিয়ে আবেদনটি দেখার জন্য ধন্যবাদ" ধরনের একটি লাইনের পর "বিনীত," বা "ধন্যবাদান্তে," লিখে নিচে নাম। ছাপানো চিঠিতে নামের ওপরে স্বাক্ষরের জায়গা রাখুন। সিভি সংযুক্ত থাকলে শেষে "সংযুক্তি: সিভি" লিখে দিন।

দৈর্ঘ্য ও দৃশ্যগত নিয়ম

  • দৈর্ঘ্য: এক পৃষ্ঠা। শব্দসংখ্যার হিসাবে মোটামুটি ২৫০ থেকে ৪০০ শব্দ বাংলা চিঠির জন্য যুক্তিসংগত। এটি কোনো সরকারি বা গবেষণালব্ধ সীমা নয়, বরং পাঠকের সময় বিবেচনা করে একটি ব্যবহারিক নিয়ম। নিজের লেখা মাপতে বাংলা ওয়ার্ড কাউন্টার ব্যবহার করতে পারেন।
  • ফন্ট: ছাপানো বা PDF চিঠির জন্য ইউনিকোড-সমর্থিত পরিষ্কার বাংলা ফন্ট, সাধারণ আকারে ১১ থেকে ১২। পুরোনো ANSI ফন্ট বা ভুল এনকোডিংয়ে লিখলে অন্যের কম্পিউটারে অক্ষর ভেঙে যেতে পারে। নতুন লেখায় ইউনিকোডই নিরাপদ।
  • মার্জিন ও ফাঁক: চার পাশে মোটামুটি এক ইঞ্চি, অনুচ্ছেদের মাঝে এক লাইনের ফাঁক। ঠাসা পাতা পড়তে ক্লান্তিকর।
  • ফাইলের নাম ও ধরন: PDF সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ ফরম্যাট ভাঙে না। ফাইলের নাম হোক "নাম-পদ-কভার-লেটার.pdf"; "final2" বা "new" ধরনের নাম নয়।
  • ভাষা: বিজ্ঞপ্তি ইংরেজিতে হলে চিঠিও ইংরেজিতে, বাংলায় হলে বাংলায়। দুই ভাষা মিশিয়ে দেবেন না। বাংলা চিঠিতে চলিত না সাধু রীতি, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বাংলা লেখা গাইডে আলোচনা আছে। আজকের বেসরকারি আবেদনে সহজ চলিত রীতিই স্বাভাবিক, আর সরকারি দরখাস্তে প্রচলিত দাপ্তরিক শব্দ ব্যবহার হয়।

কপি করার মতো নমুনা: বেসরকারি কোম্পানির আবেদন

নিচের নমুনার নাম, প্রতিষ্ঠান ও বিবরণ কাল্পনিক। কাঠামোটা নিন, কথাগুলো নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বদলান।

রাকিবুল হাসান মোবাইল: ০১৭০০-১২৩৪৫৬ | ইমেইল: rakibul.hasan@example.com ঢাকা

১৫ নভেম্বর ২০২৬

ব্যবস্থাপক, মানবসম্পদ বিভাগ নীলাচল ফুডস লিমিটেড গুলশান, ঢাকা

বিষয়: সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপণন) পদের জন্য আবেদন

সম্মানিত নিয়োগকর্তা,

আপনাদের প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখে সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপণন) পদে আবেদন করছি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপণন বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করেছি এবং গত দুই বছর একটি খাদ্যপণ্য বিতরণ প্রতিষ্ঠানে বিপণন সহকারী হিসেবে কাজ করছি।

বিজ্ঞপ্তিতে আপনারা খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রভিত্তিক প্রচারণা পরিচালনা এবং বিক্রয় দলের সঙ্গে সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা চেয়েছেন। বর্তমান কর্মস্থলে আমি ঈদ-পূর্ব মৌসুমের একটি প্রচারণার সমন্বয় করেছি, যেখানে বিক্রয় দল, ডিজাইনার ও পরিবেশকদের সঙ্গে সাপ্তাহিক বৈঠকের মাধ্যমে সময়সূচি ঠিক রেখেছি। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের পরিকল্পনা ও প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব নিয়মিত সামলাই। আমার সিভিতে এসবের বিস্তারিত দেওয়া আছে।

নীলাচল ফুডসের স্থানীয় উপকরণভিত্তিক পণ্যনীতি আমাকে আগ্রহী করেছে। আমি বিশ্বাস করি, ক্রেতার চাহিদা বুঝে পরিকল্পনা সাজানোর অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনাদের বিপণন দলকে সহায়তা করতে পারব। সাক্ষাৎকারে আমার অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ পেলে কৃতজ্ঞ থাকব।

সময় দিয়ে আবেদনটি দেখার জন্য ধন্যবাদ।

বিনীত, রাকিবুল হাসান

সংযুক্তি: সিভি

লক্ষ করুন, নমুনায় কোনো বানানো সাফল্যের সংখ্যা নেই। আপনার নিজের কাজের সংখ্যা সত্যিই থাকলে (যেমন কতজন সদস্যের দল সামলেছেন) লিখতে পারেন, কিন্তু যা প্রমাণ করা যায় না তা লিখবেন না। সাক্ষাৎকারে প্রতিটি লাইন সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।

সরকারি দরখাস্ত: বেসরকারি আবেদন থেকে কোথায় আলাদা

সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণত আবেদনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি দেওয়া থাকে: অনলাইন ফরম পূরণ, নির্ধারিত আবেদনপত্র, কিংবা হাতে লেখা বা টাইপ করা দরখাস্ত ডাকযোগে পাঠানো। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরমই একমাত্র পথ, আলাদা কভার লেটার লাগে না। বিজ্ঞপ্তিতে দরখাস্ত লিখতে বলা হলে প্রচলিত দাপ্তরিক রীতি এমন:

বিষয়বেসরকারি কোম্পানির কভার লেটারসরকারি দরখাস্ত
শুরুতারিখ, প্রাপকের পদবি, সম্বোধন"বরাবর", পদবি ও দপ্তরের নাম
বিষয় লাইনপদের নাম"বিষয়: ... পদে নিয়োগের জন্য আবেদন"
সম্বোধনজনাব/জনাবা বা সম্মানিত নিয়োগকর্তা"মহোদয়" বা "জনাব"
মূল সুরনিজের যোগ্যতা ও অবদানে জোরবিনীত নিবেদন, তথ্যের বিবরণ
ব্যক্তিগত তথ্যসিভিতে, চিঠিতে কমঅনেক সময় দরখাস্তেই বা সঙ্গে নির্ধারিত তথ্য
সংযুক্তিসিভি, কখনো সনদের কপিবিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া সনদ, ছবি ইত্যাদি, চাওয়া হলে সত্যায়িত কপি
শেষ লাইনবিনীত / ধন্যবাদান্তে"নিবেদক" বা "আপনার একান্ত অনুগত"

কোন কাগজ, কত কপি ছবি, কী ধরনের সত্যায়ন লাগবে, কোন ঠিকানায় এবং কোন তারিখের মধ্যে পৌঁছাতে হবে, এসব প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা। তাই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ পড়ে একটি তালিকা বানিয়ে নিন। শেষ তারিখের পর পাঠালে সাধারণত আবেদন গ্রহণ করা হয় না।

সরকারি দরখাস্তের নমুনা কাঠামো

বরাবর সচিব (দপ্তরের নাম) (ঠিকানা)

বিষয়: (পদের নাম) পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।

মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে, (পত্রিকা বা ওয়েবসাইটের নাম)-এ প্রকাশিত ২০২৬ সালের (মাস) মাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আমি উক্ত পদে আবেদন করতে আগ্রহী। আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

(নির্ধারিত তথ্যের তালিকা: নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্মতারিখ, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা)

অতএব, মহোদয়ের কাছে বিনীত প্রার্থনা, আমাকে উক্ত পদে নিয়োগ দানে বাধিত করবেন।

বিনীত নিবেদক, (নাম ও স্বাক্ষর) সংযুক্তি: (চাওয়া কাগজপত্রের তালিকা)

এই কাঠামো প্রচলিত দাপ্তরিক রীতির একটি সাধারণ রূপ। কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে ভিন্ন নির্দেশ থাকলে সেটাই চূড়ান্ত। বানান ও বিরামচিহ্নে বাংলা একাডেমির প্রমিত রীতি মেনে চলুন: "সরকারি", "চাকরি", "ইংরেজি", "কোনো" এবং প্রশ্নবোধক "কী" ও হ্যাঁ-না প্রশ্নের "কি"-র পার্থক্যে সতর্ক থাকুন।

প্রচলিত ভুল, যা আবেদন দুর্বল করে

  1. সব কোম্পানিকে একই চিঠি: প্রতিষ্ঠানের নাম বা পদ বদলাতে ভুলে গেলে সেটা প্রথম লাইনেই ধরা পড়ে। প্রতিটি আবেদনের আগে নাম, পদ ও তারিখ দুবার মিলিয়ে নিন।
  2. সিভির অনুলিপি: চিঠিতে সিভির লাইন আবার লেখা। এর বদলে দুটি অভিজ্ঞতা বেছে পদের সঙ্গে জুড়ুন।
  3. "আমি একজন কঠোর পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ" ধরনের দাবি: প্রমাণ ছাড়া এসব গুণবাচক কথা কিছু বলে না। একটি কাজ বা পরিস্থিতির উদাহরণ দিন।
  4. অতিরিক্ত দৈর্ঘ্য: দেড় বা দুই পৃষ্ঠার চিঠি। যা বাদ দিলে যুক্তি দুর্বল হয় না, তা বাদ দিন।
  5. ভুল সম্বোধন বা শেষ লাইন: বন্ধুকে লেখা ঢঙে "ভাই" বা "প্রিয়"।
  6. বানান ও যতিচিহ্নের ভুল: "চাকুরী", "সরকারী", দাঁড়ির জায়গায় ফুলস্টপ, কমার আগে ফাঁক। প্রমিত বানানে "চাকরি" ও "সরকারি" লেখা হয়। ভুলগুলো নিয়ে বিস্তারিত দেখুন বাংলা বানানের নিয়ম গাইডে।
  7. ফাইল ও এনকোডিং: ইউনিকোড ছাড়া অন্য ফন্টে লেখা বাংলা, বা ইমেইলে সংযুক্তি ভুলে যাওয়া।
  8. অসত্য তথ্য: যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা বেতনের তথ্য বাড়িয়ে লেখা। নিয়োগের যাচাই প্রক্রিয়ায় এটি আপনার বিরুদ্ধে যেতে পারে।

পাঠানোর আগে চেকলিস্ট

  • বিজ্ঞপ্তির সব নির্দেশ (ফরম্যাট, ভাষা, সংযুক্তি, শেষ তারিখ, ঠিকানা) পড়ে মিলিয়েছি।
  • প্রতিষ্ঠানের নাম, পদের নাম ও তারিখ ঠিক আছে।
  • চিঠি এক পৃষ্ঠার মধ্যে এবং প্রথম অনুচ্ছেদেই পদের নাম আছে।
  • দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে অন্তত একটি সত্যিকারের, যাচাইযোগ্য কাজের উদাহরণ আছে।
  • বানান, যতিচিহ্ন ও সম্বোধন একবার পুরোটা জোরে পড়ে দেখেছি।
  • ফোন নম্বর ও ইমেইল সঠিক এবং ইমেইল ঠিকানা পেশাদার।
  • ফাইল PDF, নাম গোছানো, আকার খুব বড় নয়।
  • সিভি ও অন্য সংযুক্তি যুক্ত করেছি।

AdeptWrite-এর টুল কীভাবে কাজে লাগে

AdeptWrite বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য লেখার টুলের সংগ্রহ। প্রতিবার চালানোর সীমা ৬,০০০ অক্ষর, একটি কভার লেটারের জন্য যা যথেষ্ট। টুলগুলো আপনার খসড়াকে সহায়তা করে, আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না। তথ্য সত্য কি না, সেটা আপনাকেই যাচাই করতে হবে।

  • কভার লেটার জেনারেটর: পদ, প্রতিষ্ঠান ও আপনার অভিজ্ঞতা দিলে একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি করে। সদ্য স্নাতক, অভিজ্ঞ, ইন্টার্নশিপ, সাধারণ ও আনুষ্ঠানিক মোড আছে। খসড়া পেয়ে নিজের কাজ ও ভঙ্গি দিয়ে বদলে নিন, নইলে চিঠি সবার মতো শোনাবে।
  • ইমেইল, চিঠি ও দরখাস্ত লেখক: দাপ্তরিক চিঠি, চাকরির আবেদন ও ফলো-আপ ইমেইলের মোড আছে। আবেদন পাঠানোর পর ফলো-আপ লিখতেও কাজে লাগে।
  • বাংলা বানান চেকার এবং বাংলা গ্রামার চেকার: চিঠি পাঠানোর আগে প্রমিত বানান, যতিচিহ্ন ও বাক্যের ভুল দেখে নিতে পারেন। স্বয়ংক্রিয় পরামর্শ সব ভুল ধরে না, তাই শেষবার নিজে পড়ুন।
  • টোন বদল: চিঠির সুর বেশি ঘরোয়া হয়ে গেলে আনুষ্ঠানিক বা অফিসের ভঙ্গিতে আনতে সাহায্য করে।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্নোত্তর নিচের বিভাগে দেওয়া হলো। আর যে কোনো আবেদনের আগে মনে রাখুন: নিয়োগকর্তার নির্দেশ, তারপর এই গাইড।

টুলগুলো ব্যবহার করুন

কভার লেটার জেনারেটর
পদ, প্রতিষ্ঠান আর আপনার অভিজ্ঞতা থেকে পূর্ণাঙ্গ কভার লেটার।
টুল খুলুন
ইমেইল, চিঠি ও দরখাস্ত লেখক
চাকরির আবেদন, দাপ্তরিক চিঠি, দরখাস্ত আর ফলো-আপ ইমেইল লিখুন।
টুল খুলুন
বাংলা বানান চেকার (প্রমিত বানান)
টাইপো আর অপ্রমিত বানান (যেমন বাড়ী → বাড়ি) ধরে সংশোধনের পরামর্শ দেয়, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম মেনে — যাচাই চলে আপনার ব্রাউজারেই।
টুল খুলুন
বাংলা গ্রামার চেকার (ব্যাকরণ চেক)
বাংলা ও অন্যান্য ভাষার ব্যাকরণ, বানান আর যতিচিহ্নের ভুল শুধরে নিন; প্রতিটি বদল আলাদা রঙে দেখানো হয়।
টুল খুলুন
লেখার টোন বদল: আনুষ্ঠানিক ↔ ঘরোয়া
লেখার ভঙ্গি বদলান: দরখাস্তে আনুষ্ঠানিক, অফিসে পেশাদার, চ্যাটে ঘরোয়া।
টুল খুলুন

সচরাচর জিজ্ঞাসা

কভার লেটার কত বড় হওয়া উচিত?

এক পৃষ্ঠা, তিন থেকে চার অনুচ্ছেদ। বাংলায় মোটামুটি ২৫০ থেকে ৪০০ শব্দ বাস্তবসম্মত, যদিও এটি কোনো বাঁধা নিয়ম নয়। বিজ্ঞপ্তিতে দৈর্ঘ্যের নির্দেশ থাকলে সেটাই মানুন, আর যা বাদ দিলে যুক্তি দুর্বল হয় না তা ছেঁটে ফেলুন।

কভার লেটার কি বাংলায় লিখব, না ইংরেজিতে?

বিজ্ঞপ্তি যে ভাষায় লেখা, সেই ভাষায় লিখুন। বিজ্ঞপ্তি ইংরেজিতে হলে ইংরেজিতে, বাংলায় হলে বাংলায়। দুই ভাষা মিশিয়ে একই চিঠিতে লেখা এড়িয়ে চলুন। ভাষা নিয়ে নির্দেশ না থাকলে প্রতিষ্ঠানের নিজের যোগাযোগের ভাষা দেখে ঠিক করুন।

সরকারি চাকরিতে কি আলাদা কভার লেটার লাগে?

অনেক সময় লাগে না, কারণ নির্ধারিত আবেদনপত্র বা অনলাইন ফরমই যথেষ্ট। বিজ্ঞপ্তিতে দরখাস্ত চাইলে "বরাবর", "বিষয়", "মহোদয়" ও "নিবেদক" সহ প্রচলিত দাপ্তরিক কাঠামো ব্যবহার করুন এবং চাওয়া কাগজপত্র, ছবি ও শেষ তারিখ মিলিয়ে দেখুন।

কভার লেটারের শেষে কী লিখব?

ধন্যবাদ জানিয়ে সাক্ষাৎকারের আগ্রহ প্রকাশ করুন, তারপর বেসরকারি আবেদনে "বিনীত" বা "ধন্যবাদান্তে", সরকারি দরখাস্তে "নিবেদক" লিখে নাম, ফোন ও ইমেইল দিন। সিভি সংযুক্ত থাকলে শেষে "সংযুক্তি: সিভি" যোগ করুন, যাতে পাঠক বুঝতে পারেন কিছু সঙ্গে পাঠানো হয়েছে।

সব গাইড