বাংলায় কমা কখন বসবে? কমার ১০টি নিয়ম, শুদ্ধ-অশুদ্ধ উদাহরণসহ
কমা (,) বসে তালিকার উপাদানের মাঝে, সম্বোধনের পরে, বাড়তি অংশের দুই পাশে, শর্তের অংশের পরে, বিপরীত সংযোজকের আগে ও উদ্ধৃতির আগে। কর্তা ও ক্রিয়ার মাঝে কমা বসে না। ১০টি নিয়ম উদাহরণসহ নিচে।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
কমা (,) দিয়ে বাক্যের ভেতরে এক ছোট বিরতি বোঝানো হয়। বাংলায় কমা বসে তালিকার উপাদানের মাঝে, সম্বোধনের পরে, বাক্যের অতিরিক্ত অংশের দুই পাশে, শর্ত বা সময় জানানো অংশের পরে, বিপরীত ভাবের সংযোজকের আগে, উদ্ধৃতির আগে এবং সংখ্যা ও ঠিকানার ভাগে। কর্তা ও ক্রিয়ার মাঝখানে, কিংবা বিশেষণ ও বিশেষ্যের মাঝে সাধারণত কমা বসে না।
এই গাইডে ১০টি নিয়ম আছে। প্রতিটির সঙ্গে একটি শুদ্ধ উদাহরণ ও একটি ভুল রূপ দেওয়া হয়েছে, যাতে নিজের বাক্যটি মিলিয়ে দেখতে পারেন।
আগে একটি সৎ কথা: কোন নিয়ম কোথা থেকে আসে
বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম মূলত শব্দের বানান নিয়ে। কমা বসানোর বেশির ভাগ রীতি আসে বাংলা ব্যাকরণ-বইয়ের প্রচলিত নিয়ম, সংবাদপত্র ও প্রকাশনার নিজস্ব স্টাইল এবং শিক্ষকের নির্দেশনা থেকে। তাই এই লেখার নিয়মগুলো দুই ভাগে পড়ুন:
- দৃঢ় নিয়ম: যেগুলো ভাঙলে বাক্যের অর্থ বা পাঠযোগ্যতা নষ্ট হয়, যেমন তালিকা, সম্বোধন, উদ্ধৃতির আগের কমা।
- রুচি ও স্টাইলের বিষয়: যেখানে লেখক বা প্রকাশনাভেদে ভিন্নতা চলে, যেমন ছোট শর্তবাক্যের পরে কমা বা সংখ্যার ভাগের পদ্ধতি। এমন জায়গায় লেখায় ঠিক করা হয়েছে "রীতি", ভুল নয়।
আপনার স্কুলের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিস নির্দেশিকা বা অফিসের স্টাইল-গাইড আলাদা কিছু বললে সেটিই মানুন।
নিয়ম ১: তালিকার উপাদানের মাঝে কমা
একই ধরনের তিন বা ততোধিক শব্দ বা অংশ পরপর এলে প্রতিটির মাঝে কমা বসে। শেষ দুটির মাঝে সাধারণত "ও", "এবং" বা "আর" থাকে, তাদের আগে কমা দিতে হয় না। ইংরেজির মতো "অক্সফোর্ড কমা" বাংলায় প্রচলিত নয়।
শুদ্ধ: বাজার থেকে আলু, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা এনো। অশুদ্ধ: বাজার থেকে আলু পেঁয়াজ কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা এনো। অশুদ্ধ: বাজার থেকে আলু, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ও ধনেপাতা এনো।
তালিকা বাক্যাংশ হলেও একই নিয়ম: "সকালে ঘুম থেকে ওঠা, হাত-মুখ ধোয়া, নাশতা করা ও স্কুলে যাওয়া।"
নিয়ম ২: সম্বোধনের পরে কমা
কাউকে ডেকে কথা বললে নামের বা সম্বোধনের পরে কমা বসে।
শুদ্ধ: রহিম ভাই, আপনার সঙ্গে একটু কথা ছিল। অশুদ্ধ: রহিম ভাই আপনার সঙ্গে একটু কথা ছিল।
বাক্যের মাঝখানে সম্বোধন এলে দুই পাশেই কমা: "আমি জানতাম, আপা, আপনি আসবেন।" ইমেইল বা চিঠির শুরুতে "প্রিয় রিমা," কিংবা "জনাব," এর পরে কমা দেওয়া যায়, তবে সূচনা-পঙ্ক্তির রীতি নির্ভর করে চিঠির ধরনের ওপর। পেশাদার ইমেইল লেখার গাইডে এর উদাহরণ আছে।
নিয়ম ৩: বাক্যের বাড়তি অংশের দুই পাশে কমা
কোনো শব্দের পরিচয় বা বাড়তি তথ্য দিলে, যে অংশটি বাদ দিলেও বাক্য সম্পূর্ণ থাকে, তার দুই পাশে কমা বসে।
শুদ্ধ: আমার বন্ধু রিয়া, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, কাল আসছে। শুদ্ধ: কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি, চুরুলিয়ায় জন্মেছিলেন। অশুদ্ধ: আমার বন্ধু রিয়া, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কাল আসছে।
শেষ ভুলে প্রথম কমা আছে অথচ দ্বিতীয়টি নেই। দুই পাশের কমা সবসময় জোড়ায় ভাবুন, যেন বন্ধনীর মতো। বাড়তি অংশ বাদ দিয়ে পড়লে "আমার বন্ধু রিয়া কাল আসছে।" ঠিক থাকে কি না, দেখে নিন।
নিয়ম ৪: শর্ত বা সময়ের অংশের পরে কমা
"যদি", "যখন", "যেহেতু", "যত...তত" জাতীয় অংশ দিয়ে শুরু হওয়া অধীন বাক্যাংশ প্রধান বাক্যের আগে এলে তার পরে কমা বসাই সাধারণ রীতি। তখন প্রায়ই "তবে", "তখন", "তাই" আসে।
শুদ্ধ: যদি বৃষ্টি হয়, তবে খেলা হবে না। শুদ্ধ: যখন তুমি এলে, তখন আমরা খেতে বসেছি। শুদ্ধ: যেহেতু আজ ছুটি, তাই আমরা দেরিতে উঠব। অশুদ্ধ: যদি বৃষ্টি হয় তবে, খেলা হবে না।
খেয়াল করুন, ভুল রূপে কমা "তবে"-এর পরে চলে গেছে। কমা অধীন অংশের শেষে, সংযোজকের আগে বসে।
রুচির বিষয়: খুব ছোট শর্ত বা কালের অংশে অনেকে কমা দেন না। "বৃষ্টি হলে খেলা হবে না।" লিখলে বাক্য ঠিকই পড়া যায়। অংশটি লম্বা হলে কমা পাঠককে সাহায্য করে।
নিয়ম ৫: বিপরীত ভাবের সংযোজকের আগে কমা
"কিন্তু", "তবে", "অথচ", "বরং", "অন্যদিকে" দিয়ে বিপরীত বা ভিন্ন ভাব জুড়লে এদের আগে কমা বসে।
শুদ্ধ: সে অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি। শুদ্ধ: আমি যেতে চাই, তবে আজ নয়। অশুদ্ধ: সে অনেক চেষ্টা করেছিল কিন্তু, পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি।
"এবং", "ও", "আর" দিয়ে জোড়া ছোট দুই অংশের মাঝে সাধারণত কমা লাগে না: "সে গান গায় ও ছবি আঁকে।" তবে দুটি বড় স্বাধীন বাক্য "আর" দিয়ে জুড়লে আগে কমা দেওয়া যায়।
নিয়ম ৬: উদ্ধৃতি শুরুর আগে কমা
কেউ কী বলেছে তা সরাসরি উদ্ধৃত করলে বক্তার অংশের পরে কমা বসে, তারপর উদ্ধৃতিচিহ্ন।
শুদ্ধ: শিক্ষক বললেন, “আগামীকাল পরীক্ষা হবে।” অশুদ্ধ: শিক্ষক বললেন “আগামীকাল পরীক্ষা হবে।”
উদ্ধৃতি আগে এলে বক্তার অংশের আগে কমা থাকে: “আগামীকাল পরীক্ষা হবে,” শিক্ষক বললেন। এখানে উদ্ধৃতির শেষে সাধারণত কমা বসে, দাঁড়ি নয়, কারণ বাক্য এখনো শেষ হয়নি। পরোক্ষ উক্তিতে (শিক্ষক বললেন যে আগামীকাল পরীক্ষা হবে) কমা লাগে না। উদ্ধৃতিচিহ্ন, দাঁড়ি ও অন্য চিহ্নের পূর্ণ সারণি পাবেন বাংলা যতিচিহ্ন গাইডে।
নিয়ম ৭: বাক্য শুরুর অব্যয় বা অনুচ্ছেদ-সংযোগকারী শব্দের পরে কমা
বাক্যের শুরুতে এমন শব্দ এলে যা আগের বাক্যের সঙ্গে সম্পর্ক দেখায়, যেমন "অতএব", "তাই", "সুতরাং", "অর্থাৎ", "যেমন", "প্রথমত", "অবশ্য", "হ্যাঁ", "না", তার পরে কমা বসে।
শুদ্ধ: প্রথমত, লেখার বিষয় ঠিক করতে হবে। শুদ্ধ: অর্থাৎ, ফলাফল আগামী সপ্তাহে জানা যাবে। শুদ্ধ: হ্যাঁ, আমি কাল আসব। কম পছন্দের: অতএব আমরা বলতে পারি যে কাজটি শেষ। (আনুষ্ঠানিক লেখায় "অতএব," লেখাই বেশি চলে)
এ ক্ষেত্রেও রুচির জায়গা আছে। ছোট ও স্পষ্ট শব্দের পরে অনেকে কমা বাদ দেন। একাডেমিক লেখায় সংযোগ-শব্দের পরে কমা বসানোই বেশি দেখা যায়। এমন সংযোগ-শব্দের তালিকা দেখুন সংযোগ-শব্দের গাইডে।
নিয়ম ৮: সমমানের একাধিক বিশেষণের মাঝে কমা
একই বিশেষ্যের আগে একই স্তরের দুই বা ততোধিক বিশেষণ থাকলে তাদের মাঝে কমা বসাতে পারেন।
শুদ্ধ: একটি শান্ত, সবুজ গ্রামের কথা বলছি। অশুদ্ধ: একটি শান্ত সবুজ, গ্রামের কথা বলছি।
পরীক্ষা: দুই বিশেষণের মাঝে "ও" বসিয়ে দেখুন। "শান্ত ও সবুজ গ্রাম" স্বাভাবিক শোনালে কমা চলবে। "পুরনো বাঁশের ঘর" এ "পুরনো ও বাঁশের ঘর" শোনায় না, তাই এখানে কমা হবে না। কারণ "বাঁশের" ঘরের ধরন বলছে, অবস্থা নয়।
নিয়ম ৯: সংখ্যা, তারিখ ও ঠিকানায় কমা
সংখ্যায়: বাংলাদেশ ও ভারতে সংখ্যা ভাগের প্রচলিত ধরন হলো প্রথমে তিন অঙ্ক, তারপর দুই অঙ্ক করে (লাখ-কোটির হিসাব): ১,২৫,০০০ বা ১২,৫০,০০০। আন্তর্জাতিক ধরন তিন অঙ্ক করে: 125,000 বা 1,250,000। দুটি ধরন একই লেখায় মেশাবেন না। AdeptWrite-এর বাংলা ইঞ্জিন দশমিকে বিন্দু (.) ও হাজারের ভাগে কমা (,) ধরে নেয়। ভাগ করার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকার ওপর নির্ভর করে। সংখ্যা লেখার আরও নিয়ম পাবেন লেখায় সংখ্যা গাইডে।
তারিখে: "১২ নভেম্বর, ২০২৬" বা "১২ নভেম্বর ২০২৬", দুটিই দেখা যায়। যে রীতি নিন, পুরো লেখায় একই রাখুন।
ঠিকানায়: আলাদা অংশের মাঝে কমা: "বাড়ি ১২, সড়ক ৫, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯।" এখানে "ঢাকা-১২০৯"-এ হাইফেন থাকে, কমা নয়।
অশুদ্ধ: বাড়ি ১২ সড়ক ৫ ধানমন্ডি ঢাকা-১২০৯।
নিয়ম ১০: যেখানে কমা বসে না
কমা না বসানোর জায়গাও জানা জরুরি, কারণ অতিরিক্ত কমাই এখন বেশি দেখা যায়।
- কর্তা ও ক্রিয়ার মাঝে নয়: "ছেলেটি, বাড়ি গেল।" ভুল। শুদ্ধ: "ছেলেটি বাড়ি গেল।"
- ক্রিয়া ও কর্মের মাঝে নয়: "সে খেল, ভাত।" ভুল।
- "যে"-এর আগে-পরে অকারণে নয়: "সে বলল যে সে আসবে।" সাধারণ রীতি। "যে"-এর পরে কমা বসানো পুরনো ছাপায় দেখা গেলেও এখন কম চলে।
- দুটি পূর্ণ বাক্য শুধু কমা দিয়ে জোড়া লাগাবেন না। "আমি স্কুলে গেলাম, সে বাড়ি ফিরল।" এমন বাক্যে অনেক সময় দাঁড়ি বা সেমিকোলন বেশি মানানসই, বিশেষ করে বাক্য দীর্ঘ হলে। ছোট ও সমান্তরাল বাক্য কমা দিয়ে রাখা চলে।
- ভাব সম্প্রসারণে যেখানে থামা দরকার নেই, সেখানে নয়। জোরে পড়ে দেখুন। যেখানে গলা সত্যিই থামে না, সেখানে কমা না বসানোই ভালো।
নিয়মগুলো এক নজরে
| # | নিয়ম | শুদ্ধ উদাহরণ | সাধারণ ভুল |
|---|---|---|---|
| ১ | তালিকা | আলু, পেঁয়াজ ও মরিচ | আলু পেঁয়াজ ও মরিচ |
| ২ | সম্বোধন | করিম ভাই, শুনুন। | করিম ভাই শুনুন। |
| ৩ | বাড়তি অংশ | রিয়া, যে পড়ে, আসছে। | রিয়া, যে পড়ে আসছে। |
| ৪ | শর্ত/সময় | যদি যাও, তবে বলো। | যদি যাও তবে, বলো। |
| ৫ | বিপরীত সংযোজক | চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। | চেষ্টা করেছিল কিন্তু, পারেনি। |
| ৬ | উদ্ধৃতি | সে বলল, “আসছি।” | সে বলল “আসছি।” |
| ৭ | শুরুর সংযোগ-শব্দ | প্রথমত, তথ্য সংগ্রহ। | প্রথমত তথ্য, সংগ্রহ। |
| ৮ | সমমানের বিশেষণ | শান্ত, সবুজ গ্রাম | শান্ত সবুজ, গ্রাম |
| ৯ | সংখ্যা, ঠিকানা | ১২, সড়ক ৫, ঢাকা | ১২ সড়ক ৫ ঢাকা |
| ১০ | নয় কর্তা-ক্রিয়ার মাঝে | ছেলেটি বাড়ি গেল। | ছেলেটি, বাড়ি গেল। |
আসল বাক্যে সংশোধন: আগে ও পরে
আগে:
আমি যদি সময় পাই তবে, কাল তোমার বাড়িতে যাব কিন্তু মা, বলেছেন যে তাঁর শরীর ভালো নেই তাই আমরা, হয়তো পরশু যাব।
পরে:
আমি যদি সময় পাই, তবে কাল তোমার বাড়িতে যাব। কিন্তু মা বলেছেন, তাঁর শরীর ভালো নেই। তাই আমরা হয়তো পরশু যাব।
কী কী করা হয়েছে:
- "তবে"-এর পরের অকারণ কমা সরে এসেছে "পাই"-এর পরে (নিয়ম ৪)।
- দুটি পূর্ণ ভাবনা আলাদা বাক্য হয়েছে, তাই "কিন্তু" নতুন বাক্য শুরু করছে (নিয়ম ১০-এর ৪)।
- "মা, বলেছেন"-এর কমা সরেছে, কারণ কর্তা ও ক্রিয়ার মাঝে কমা চলে না।
- "তাই আমরা, হয়তো"-এর কমাও একই কারণে বাদ গেছে।
- দাঁড়ি ঠিক জায়গায় বসেছে।
পরীক্ষার উত্তর ও কর্মক্ষেত্রে কমা
- পরীক্ষার খাতায় (সারাংশ, ভাবসম্প্রসারণ, রচনা): দুর্বল কমা-প্রয়োগ নম্বরে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নির্ভর করে পরীক্ষক ও বোর্ডের মূল্যায়ন-নির্দেশিকার ওপর। আমরা এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট নম্বর-বিভাজন দাবি করছি না। তবে পরিষ্কার বিরতি-চিহ্নের লেখা পড়তে সহজ, আর সেটা ভালো ছাপ ফেলে।
- চাকরির আবেদন ও কভার লেটার: ছোট, গোছানো বাক্যে কমার ঝুঁকি কম। দীর্ঘ বাক্যে কমা বাড়লে ভেঙে দুটি করুন। আরও দেখুন কভার লেটারের ফরম্যাট।
- সংবাদ ও কনটেন্ট লেখা: মোবাইলে পড়ার জন্য ছোট বাক্য ও কম কমা মানানসই। কমা দিয়ে বাক্য লম্বা করার চেয়ে ভেঙে দেওয়া ভালো।
আপনার বাক্য পরীক্ষার ৬টি প্রশ্ন
- বাক্যটি জোরে পড়ুন। যেখানে সত্যিই থামেন, সেখানে কমা আছে কি?
- কমার আগে-পরের অংশ কি সংযোজকের (যদি-তবে, কিন্তু) নিয়মে পড়ে?
- কমার জোড়া কি খোলা-বন্ধ মিলেছে (বাড়তি অংশ বা সম্বোধন বাক্যের মাঝে এলে)?
- কর্তা ও ক্রিয়ার মাঝে কোনো কমা ঢুকে গেছে কি?
- দুটি বড় স্বাধীন বাক্য শুধু কমায় আটকে আছে কি? থাকলে ভেঙে ফেলুন।
- তালিকার শেষ দুটির মাঝে "ও/এবং"-এর আগে অকারণে কমা বসেছে কি?
AdeptWrite-এর টুল দিয়ে কমা ও যতিচিহ্ন পরীক্ষা
- বাংলা গ্রামার চেকার বাংলা লেখার ব্যাকরণ, বানান ও যতিচিহ্নের ভুল শুধরে দিতে সাহায্য করে এবং প্রতিটি বদল আলাদা রঙে দেখায়। এটি এআই-ভিত্তিক, তাই কমার প্রতিটি পরামর্শ নিজের বিচারে মিলিয়ে নিন। কমা অনেক সময় রুচির বিষয়, তাই টুলের পরামর্শকেই একমাত্র সঠিক ধরে নেবেন না।
- বাংলা বানান চেকার ব্রাউজারে চলে এবং কিছু যান্ত্রিক নিয়ম দিয়ে দ্বিগুণ ফাঁকা, কমার পরে ফাঁকার অভাব ও কমার আগের অকারণ ফাঁকা ধরে। কমা সঠিক জায়গায় বসেছে কি না, তা এটি যাচাই করে না।
- বাক্য সংশোধন জটপাকানো লম্বা বাক্যকে সহজ করে লিখতে সাহায্য করে, যেখানে কমা সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
টুলে একবারে সর্বোচ্চ ৬,০০০ অক্ষর দেওয়া যায়। টুল সহায়ক, শেষ সিদ্ধান্ত আপনার।
আরও পড়ুন
সব চিহ্নের সারণি দেখুন বাংলা যতিচিহ্ন গাইডে। শব্দের বানান ঠিক করতে পড়ুন বাংলা বানানের নিয়ম। অনুচ্ছেদ কত বড় হবে সে বিষয়ে আছে অনুচ্ছেদের দৈর্ঘ্য, আর লেখার ভঙ্গি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও ঘরোয়া বাংলা লেখা।
টুলগুলো ব্যবহার করুন
সচরাচর জিজ্ঞাসা
বাংলায় "এবং"-এর আগে কি কমা বসে?
তালিকার শেষ দুটি উপাদানের মাঝে "ও" বা "এবং" থাকলে সাধারণত তার আগে কমা বসে না: আম, জাম ও কাঁঠাল। ইংরেজির অক্সফোর্ড কমা বাংলায় প্রচলিত নয়। দুটি বড় স্বাধীন বাক্য "এবং" দিয়ে জুড়লে স্পষ্টতার জন্য আগে কমা দেওয়া যায়।
"কিন্তু"-এর আগে নাকি পরে কমা বসবে?
সাধারণ রীতি হলো "কিন্তু", "তবে", "অথচ"-এর আগে কমা: সে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। "কিন্তু"-এর ঠিক পরে কমা সাধারণত বসানো হয় না ("কিন্তু, পরীক্ষায়..." নয়)। অবশ্য বাক্যের শুরুতেই "কিন্তু" এলে আগে কোনো কমা থাকে না।
কমা কি বাংলা একাডেমির নির্ধারিত নিয়ম?
একাডেমির প্রমিত বানানের নিয়ম মূলত শব্দের বানান নিয়ে। কমা বসানোর বেশির ভাগ রীতি ব্যাকরণ-বইয়ের প্রচলিত নিয়ম এবং প্রকাশনা বা সংবাদপত্রের স্টাইল থেকে আসে, তাই কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা আছে। পরীক্ষা বা থিসিসে নির্দেশিকা থাকলে সেটিই মানুন।
বাংলা সংখ্যায় কমা কীভাবে বসে?
বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচলিত ধরনে আগে তিন অঙ্ক, তারপর দুই অঙ্ক করে কমা বসে: ১২,৫০,০০০ (বারো লাখ পঞ্চাশ হাজার)। আন্তর্জাতিক ধরনে তিন অঙ্ক করে: 1,250,000। একই লেখায় দুই ধরন মেশাবেন না, আর নির্দেশিকা থাকলে তা মানুন।
সম্পর্কিত গাইড
- বাংলা যতিচিহ্ন: দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ সব চিহ্নের ব্যবহার, উদাহরণ ও ভুল — বাংলা বাক্য শেষ হয় দাঁড়ি (।) দিয়ে, ফুলস্টপ (.) বা পাইপ (|) দিয়ে নয়। প্রশ্ন ও বিস্ময়ের শেষে ? আর ! বসে, তখন দাঁড়ি …
- বাংলা বানানের নিয়ম: বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানের সহজ নির্দেশিকা (উদাহরণসহ) — বাংলাদেশে প্রমিত বানানের মানদণ্ড বাংলা একাডেমির নিয়ম। মূল কথা: তৎসম শব্দ অপরিবর্তিত, অতৎসম শব্দে হ্রস্ব ই-উ (বাড়ি, সরক…
- একটি অনুচ্ছেদে কয়টি বাক্য থাকা উচিত? রচনা, পরীক্ষা, নিউজ ও ওয়েব লেখায় আদর্শ দৈর্ঘ্য — একটি অনুচ্ছেদে সাধারণত তিন থেকে ছয়টি বাক্য থাকে, প্রায় ৫০ থেকে ১২০ শব্দ। আসল নিয়ম: এক অনুচ্ছেদে এক মূল ভাবনা। পরীক্ষা…
- সাধু ভাষা ও চলিত ভাষা: আনুষ্ঠানিক ও ঘরোয়া লেখার পার্থক্য — সাধু ভাষায় ক্রিয়া ও সর্বনাম লম্বা (করিতেছি, তাহার), চলিতে ছোট (করছি, তার)। আজকের দরখাস্ত, ইমেইল, প্রবন্ধ ও সংবাদে চলিত…
- পেশাদার ইমেইল লেখার নিয়ম: বিষয় লাইন, সম্বোধন, মূল বক্তব্য ও সমাপ্তি, দুটি পূর্ণ নমুনাসহ — পেশাদার ইমেইলে থাকে নির্দিষ্ট বিষয় লাইন, উপযুক্ত সম্বোধন, প্রথম দুই লাইনে অনুরোধ, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও সময়সীমা, এবং …