চাকরি ও ক্যারিয়ার

সিভি ও বায়োডাটা: বাংলাদেশে চাকরির সিভির সঠিক ফরম্যাট কী

AdeptWrite সম্পাদকীয় দলহালনাগাদ 19 মিনিটের পাঠ

সিভি শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার গোছানো সারসংক্ষেপ; বায়োডাটা ব্যক্তিগত তথ্যনির্ভর পুরোনো ধাঁচ। বেসরকারি চাকরিতে এক-দুই পৃষ্ঠার ফলাফলকেন্দ্রিক সিভি চলে। বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ সবার ওপরে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: বাংলাদেশে সিভির ফরম্যাট কেমন হবে

বাংলাদেশে বেসরকারি কোম্পানি, এনজিও, ব্যাংক বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে সিভি সাধারণত পরিষ্কার, এক থেকে দুই পৃষ্ঠার, উল্টো কালানুক্রমিক হয়। অর্থাৎ সবচেয়ে সাম্প্রতিক কাজ বা পড়াশোনা আগে লেখা হয়। সিভি সাধারণত ইংরেজিতে লেখা হয়, তবে বিজ্ঞপ্তি বাংলায় হলে বা প্রতিষ্ঠান বাংলায় চাইলে বাংলায় লেখাই ঠিক। ছবি, বাবার নাম, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর নিয়ে কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই: কোন তথ্য দেবেন, তা ঠিক করে দেয় চাকরির বিজ্ঞপ্তি বা আবেদনের ফরম।

এই লেখায় আমরা শুধু প্রচলিত রীতি আর যুক্তি নিয়ে কথা বলছি। কোনো জরিপের সংখ্যা বা "নিয়োগকর্তারা সবাই এটা চান" ধরনের দাবি এখানে নেই, কারণ প্রতিষ্ঠানভেদে চাওয়া আলাদা। নিয়মটা সহজ: বিজ্ঞপ্তিতে যা লেখা আছে, সেটাই আগে; তারপর এই গাইড।

সিভি আর বায়োডাটা কি এক জিনিস

না, এক জিনিস নয়, যদিও অনেকে দুটি শব্দ একে অপরের জায়গায় ব্যবহার করেন।

বিষয়সিভি (CV)বায়োডাটা
মূল উদ্দেশ্যচাকরির জন্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দেখানোব্যক্তির পরিচিতিমূলক তথ্যের তালিকা
শুরুতে কী থাকেনাম, যোগাযোগ, পেশাগত সারসংক্ষেপব্যক্তিগত তথ্যের ছক
ব্যক্তিগত তথ্যঅল্প: ফোন, ইমেইল, শহরবেশি: পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, স্থায়ী ঠিকানা, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা ইত্যাদি
অভিজ্ঞতার বর্ণনাভূমিকা ও অর্জনসহ বিস্তারিতসংক্ষিপ্ত, প্রায়ই শুধু পদ ও সময়কাল
প্রচলিত ব্যবহারবেসরকারি, এনজিও, আন্তর্জাতিক চাকরিপুরোনো ধাঁচের আবেদন, কিছু সরকারি-আধা সরকারি ফরম, বিবাহ-সংক্রান্ত পরিচয়
দৈর্ঘ্যসাধারণত ১-২ পৃষ্ঠাসাধারণত ১ পৃষ্ঠা

বাস্তবে কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের নির্ধারিত ছক বা অনলাইন আবেদনপত্র দেয়। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্যের ঘর থাকলে সেটি পূরণ করা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি নিজে সিভি বানালে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য ঢোকানোর দরকার নেই।

সিভিতে কোন কোন সেকশন থাকবে

নিচের কাঠামোটি বেশির ভাগ বেসরকারি চাকরির জন্য কাজ করে। উপরের সেকশনগুলো পাঠক সবার আগে দেখেন, তাই সেরা তথ্যগুলো ওপরের দিকে রাখুন।

  1. নাম ও যোগাযোগ। পুরো নাম, মোবাইল নম্বর, পেশাদার ইমেইল ঠিকানা, শহর বা এলাকা। লিংকডইন প্রোফাইল থাকলে লিংক দিন।
  2. পেশাগত সারসংক্ষেপ। দুই থেকে চার লাইনে আপনি কে, কোন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন বা পড়েছেন, আর কী ধরনের কাজ খুঁজছেন।
  3. অভিজ্ঞতা। পদ, প্রতিষ্ঠান, সময়কাল, তারপর ২-৪টি বুলেট। বুলেটে দায়িত্ব নয়, ফলাফল লিখুন।
  4. শিক্ষা। ডিগ্রির নাম, বিষয়, প্রতিষ্ঠান, পাসের বছর, ফলাফল (সিজিপিএ হলে স্কেল সহ, যেমন ৪.০০-এর মধ্যে)।
  5. দক্ষতা। টুল, সফটওয়্যার, ভাষা। "কঠোর পরিশ্রমী" ধরনের অস্পষ্ট গুণের চেয়ে পরীক্ষা করা যায় এমন দক্ষতা ভালো।
  6. প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট ও প্রকল্প। বিজ্ঞপ্তির পদের সঙ্গে মেলে এমনগুলো।
  7. অতিরিক্ত কার্যক্রম। ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবা, প্রতিযোগিতা। সদ্য স্নাতকদের জন্য এটি অভিজ্ঞতার অভাব পূরণে কাজে লাগে।
  8. রেফারেন্স। চাইলে দিন, নয়তো "অনুরোধে প্রদান করা হবে" লিখলেই চলে। রেফারেন্স হিসেবে কারও নাম দেওয়ার আগে তাঁর অনুমতি নিন।

সদ্য স্নাতক হলে "শিক্ষা" সেকশন "অভিজ্ঞতা"র আগে বসানো যায়। অভিজ্ঞ হলে অভিজ্ঞতা আগে।

ছবি, বয়স, বাবার নাম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য: কী দেবেন

এটি বাংলাদেশের সিভি নিয়ে সবচেয়ে বেশি দ্বিধার জায়গা। কোনো একক নিয়ম নেই, তাই এই পথে ভাবুন:

  • বিজ্ঞপ্তি বা ফরমে চাওয়া হলে দিন। সরকারি ও আধা-সরকারি আবেদনে, ব্যাংকের কিছু নিয়োগে বা নির্ধারিত অনলাইন ফরমে ছবি, পিতার নাম, জন্মতারিখ বা এনআইডি চাওয়া হতে পারে। চাওয়া হলে ঠিক সেই আকারে দিন।
  • না চাইলে নিজ থেকে ঢোকাবেন না। বেসরকারি চাকরিতে ছবি, ধর্ম ও বৈবাহিক অবস্থা সাধারণত সিভির শর্ত নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা অনেক সময় ছবি ছাড়া সিভি চায়, কারণ বাছাইয়ে চেহারা বা পরিচয় যেন প্রভাব না ফেলে। তবে এটি প্রতিষ্ঠানভেদে বদলায়, তাই বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
  • ছবি দিলে পরিষ্কার, পেশাদার, সাম্প্রতিক ছবি দিন। সেলফি, ফিল্টার করা বা দলগত ছবি নয়।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর ও বাড়ির পূর্ণ ঠিকানা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সিভিতে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শুরুতে শুধু শহর বা এলাকা দিন, প্রয়োজন হলে পরে নথি হিসেবে দিন।

নিজের গোপনীয়তার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত আপনার। যাঁদের এটি নিয়ে সংশয়, তাঁরা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ-ইমেইলে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে পারেন।

দৈর্ঘ্য: এক পৃষ্ঠা নাকি দুই পৃষ্ঠা

  • সদ্য স্নাতক বা ৩ বছরের কম অভিজ্ঞতা: এক পৃষ্ঠা যথেষ্ট ও সবচেয়ে ভালো।
  • মাঝারি অভিজ্ঞতা: এক থেকে দুই পৃষ্ঠা।
  • ব্যবস্থাপক পদ, গবেষণা বা শিক্ষকতা: দুই পৃষ্ঠা বা বেশি, বিশেষ করে প্রকাশনা থাকলে। একাডেমিক পদে বিস্তৃত সিভি সাধারণ।

দৈর্ঘ্যের চেয়ে বেছে লেখাটা জরুরি। দশ বছর আগের স্কুলের প্রতিযোগিতা যদি আজকের পদের সঙ্গে না মেলে, বাদ দিন। পাতা ভরানোর জন্য ফন্ট ছোট করবেন না: ১০-১১ পয়েন্টের নিচে নামলে পড়া কঠিন হয়ে যায়।

বাংলায় লিখবেন, নাকি ইংরেজিতে

সরল নিয়ম: বিজ্ঞপ্তি যে ভাষায়, সিভিও সেই ভাষায়। ইংরেজি বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজি সিভি, বাংলা বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা। ভাষা নিয়ে কিছু বলা না থাকলে বেসরকারি, বহুজাতিক ও এনজিও খাতে ইংরেজিই প্রচলিত। কিছু ক্ষেত্রে বাংলা সিভিই প্রত্যাশিত, যেমন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, বাংলা ভাষা-সাহিত্য শিক্ষকতা, স্থানীয় সরকার বা মাঠপর্যায়ের কিছু প্রতিষ্ঠান।

বাংলা সিভি লেখার সময় তিনটি জিনিস খেয়াল রাখুন।

১. সংখ্যা। পুরো সিভিতে একই ধরনের অঙ্ক রাখুন: হয় বাংলা অঙ্ক (০১৭১২-৩৪৫৬৭৮), নয়তো ইংরেজি অঙ্ক। একই পাতায় দুটি মেশাবেন না। ফোন নম্বর ও ইমেইলে ইংরেজি অঙ্ক সহজে পড়া যায়।

২. বানান। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান মানুন। পদের নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম আর ডিগ্রির নামে বানান ভুল সবচেয়ে চোখে পড়ে। যেমন "বাড়ী" নয় "বাড়ি", "প্রতিযোগীতা" নয় "প্রতিযোগিতা"; "সিদ্ধান্ত", "উচ্চশিক্ষা"-র মতো যুক্তাক্ষরের শব্দেও ভুল হয়।

৩. ভঙ্গি। সিভিতে বাক্য হবে ছোট ও কাজের ক্রিয়াভিত্তিক। "আমি একজন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল মানুষ" না লিখে লিখুন "মাসিক বিক্রয় প্রতিবেদন তৈরি ও জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছি"।

আরও জানতে পারেন আনুষ্ঠানিক ও ঘরোয়া বাংলা লেখার পার্থক্য এবং বাংলা বানানের নিয়ম গাইডে।

অভিজ্ঞতার বুলেট: দায়িত্ব নয়, ফলাফল লিখুন

সিভিতে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে এই অংশ। একই কাজ দুইভাবে লেখা যায়:

আগে (দুর্বল):

বিক্রয় বিভাগে কাজ করেছি। গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম এবং রিপোর্ট দিতাম।

পরে (জোরালো):

(নমুনা) ঢাকা অঞ্চলের ৪০টি খুচরা দোকানের গ্রাহক তালিকা সামলেছি; মাসিক বিক্রয় প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যবস্থাপকের কাছে জমা দিয়েছি।

দ্বিতীয় বাক্যে ৪০ সংখ্যাটি শুধু নমুনা; আপনার সংখ্যা আসবে আপনার নিজের কাজ থেকে। সংখ্যা বানাবেন না: যে হিসাব আপনি যাচাই করে বলতে পারবেন না, সিভিতে তা লিখবেন না, কারণ সাক্ষাৎকারে সেটি নিয়ে প্রশ্ন আসবে।

আরেকটি আগে-পরে, সদ্য স্নাতকের জন্য:

আগে:

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি।

পরে:

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বার্ষিক আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতা আয়োজনে দলের সমন্বয় করেছি।

ক্রিয়ার শুরুটা সক্রিয় রাখুন: আয়োজন করেছি, তৈরি করেছি, সমন্বয় করেছি, প্রশিক্ষণ দিয়েছি, কমিয়েছি।

পেশাগত সারসংক্ষেপের নমুনা

সদ্য স্নাতক:

ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিপণন), ডিজিটাল বিপণন ও এক্সেল বিশ্লেষণে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ইন্টার্নশিপে সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট ক্যালেন্ডার তৈরির অভিজ্ঞতা আছে। বিপণন সহকারী পদে কাজ শুরু করতে আগ্রহী।

অভিজ্ঞ:

হিসাব ও অর্থ বিভাগে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন; মাসিক হিসাব সমন্বয়, ভ্যাট রিটার্নের প্রস্তুতি ও বাজেট প্রতিবেদনে দক্ষ। উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অ্যাকাউন্টস পদে কাজ খুঁজছি।

এখানে "পাঁচ বছর" কেবল নমুনা; আপনারটি নিজের বাস্তব তথ্য থেকে লিখুন।

ফাইল ও পাঠানোর খুঁটিনাটি

  • ফরম্যাট: বিজ্ঞপ্তিতে ভিন্ন কিছু না থাকলে পিডিএফ পাঠান, যাতে ফন্ট ও বিন্যাস ভেঙে না যায়। বাংলা সিভিতে ইউনিকোড ফন্ট ব্যবহার করুন; পুরোনো ASCII-ভিত্তিক ফন্টে লেখা ফাইল অন্য কম্পিউটারে এলোমেলো দেখাতে পারে।
  • ফাইলের নাম: "CV.pdf" নয়, বরং "আপনার-নাম-CV.pdf" বা "Your-Name-CV.pdf"।
  • ইমেইলের বিষয়: বিজ্ঞপ্তিতে যে বিষয় লাইন চাওয়া হয়েছে, হুবহু সেটাই লিখুন (যেমন পদের নাম)।
  • ইমেইল ঠিকানা: নামভিত্তিক সরল ঠিকানা রাখুন। ডাকনামসর্বস্ব ঠিকানা পেশাদার আবেদনে ভালো ছাপ ফেলে না।
  • কভার লেটার: আলাদা চিঠি বা ইমেইলের মূল অংশে। বিস্তারিত দেখুন বাংলাদেশে কভার লেটার লেখার নিয়ম আর কভার লেটারের ফরম্যাট গাইডে।
  • অনলাইন জব পোর্টাল: পোর্টালের নিজস্ব সিভি-ছক থাকলে সেটি পূরণ করুন, আর আলাদা সিভি আপলোডের সুযোগ থাকলে নিজের সাজানো ফাইলটি দিন। পোর্টালভেদে ছক বদলায়, তাই আবেদনের আগে ছকটি দেখে নিন।

এক নজরে সেকশন-লেআউট টেমপ্লেট

নিচের ছকটি কপি করে নিজের তথ্য বসাতে পারেন। বন্ধনীর লেখাগুলো আপনার তথ্য দিয়ে বদলান।

  1. [পুরো নাম], [মোবাইল নম্বর] | [ইমেইল] | [শহর] | [লিংকডইন লিংক]
  2. পেশাগত সারসংক্ষেপ: [২-৪ লাইন]
  3. অভিজ্ঞতা: [পদ], [প্রতিষ্ঠান], [মাস-বছর থেকে মাস-বছর]। এরপর [২-৪টি ফলাফলভিত্তিক বুলেট]
  4. শিক্ষা: [ডিগ্রি ও বিষয়], [প্রতিষ্ঠান], [পাসের বছর], [সিজিপিএ ও স্কেল]
  5. দক্ষতা: [টুল ও সফটওয়্যার], [ভাষা: বাংলা, ইংরেজি]
  6. প্রশিক্ষণ ও প্রকল্প: [নাম, প্রতিষ্ঠান, বছর]
  7. রেফারেন্স: অনুরোধে প্রদান করা হবে

প্রতিটি সেকশনের শিরোনাম বড় ও গাঢ় করুন, আর সেকশনের মাঝে সমান ফাঁক রাখুন। এতে পাঠক চোখ বুলিয়েই দরকারি অংশ খুঁজে পান।

সাধারণ ভুল ও সংশোধন

ভুলকেন সমস্যাকী করবেন
প্রতিটি আবেদনে একই সিভিপদের সঙ্গে না মিললে আলাদা করে ধরা পড়ে নাবিজ্ঞপ্তির মূল শব্দ ও দক্ষতা সারসংক্ষেপে ও দক্ষতা অংশে মেলান
বানান ও ব্যাকরণের ভুলযত্নের অভাব বোঝায়জমা দেওয়ার আগে দুবার পড়ুন ও টুলে যাচাই করুন
অস্পষ্ট দাবি ("সবকিছুতে দক্ষ")প্রমাণ নেইনির্দিষ্ট টুল ও কাজের উদাহরণ দিন
বাংলা-ইংরেজি মেশানো এলোমেলো বিন্যাসপাঠে বাধাএক ভাষা বেছে নিন, নামের ইংরেজি রূপ বাদে
বেশি রঙ, বাক্স, গ্রাফিকস্বয়ংক্রিয় সিভি পাঠক সফটওয়্যার পড়তে নাও পারেসরল এক-কলামের বিন্যাস
ফাঁক রাখা কর্মজীবনের কারণ না বলাপ্রশ্ন জাগেএক লাইনে কারণ লিখুন (উচ্চশিক্ষা, পারিবারিক দায়িত্ব, ফ্রিল্যান্স)
মিথ্যা বা বাড়িয়ে লেখা তথ্যযাচাইয়ে ধরা পড়লে আবেদন বাতিল হতে পারেযা সত্যি, শুধু তা লিখুন

জমা দেওয়ার আগের চেকলিস্ট

  • বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত (ভাষা, ফাইলের ধরন, নথি, শেষ তারিখ) মিলিয়েছি।
  • নাম, ফোন ও ইমেইল সঠিক এবং সক্রিয়।
  • সারসংক্ষেপ এই পদের জন্য লেখা।
  • প্রতিটি অভিজ্ঞতার বুলেটে অন্তত একটি ফলাফল বা নির্দিষ্ট কাজ আছে।
  • শিক্ষার ফলাফল স্কেলসহ লেখা।
  • বানান ও যতিচিহ্ন যাচাই করেছি।
  • সংখ্যার ধরন ও তারিখের বিন্যাস সবখানে এক।
  • ফাইলটি পিডিএফ বা চাওয়া ফরম্যাটে, নামসহ।

AdeptWrite-এর টুল কীভাবে সাহায্য করে

AdeptWrite সিভি বানিয়ে দেয় না; তবে সিভি ও আবেদনের লেখা পরিষ্কার করতে কয়েকটি টুল কাজে লাগে। সবগুলো আপনার লেখার ওপর কাজ করে এবং ফলাফল নিজে পড়ে যাচাই করা আপনারই দায়িত্ব। প্রতি দফায় সর্বোচ্চ ৬,০০০ অক্ষর দেওয়া যায়।

কোনো টুলই আপনার অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা তৈরি করে দেয় না। সিভির প্রতিটি তথ্য আপনার নিজের বাস্তব তথ্য হতে হবে।

শেষ কথা

ভালো সিভি মানে সুন্দর ডিজাইন নয়; বরং পাঠক কয়েক সেকেন্ডে বুঝতে পারেন আপনি কে, কী করেছেন আর এই পদে কেন মানানসই। বিজ্ঞপ্তি পড়ুন, অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিন, ফলাফল দিয়ে অভিজ্ঞতা লিখুন, আর পাঠানোর আগে বানান যাচাই করুন। কভার লেটার ও ইমেইল নিয়ে পরের ধাপে পেশাদার ইমেইল লেখার গাইড দেখতে পারেন।

টুলগুলো ব্যবহার করুন

বাংলা বানান চেকার (প্রমিত বানান)
টাইপো আর অপ্রমিত বানান (যেমন বাড়ী → বাড়ি) ধরে সংশোধনের পরামর্শ দেয়, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম মেনে — যাচাই চলে আপনার ব্রাউজারেই।
টুল খুলুন
বাংলা গ্রামার চেকার (ব্যাকরণ চেক)
বাংলা ও অন্যান্য ভাষার ব্যাকরণ, বানান আর যতিচিহ্নের ভুল শুধরে নিন; প্রতিটি বদল আলাদা রঙে দেখানো হয়।
টুল খুলুন
বাক্য সংশোধন ও পুনর্লিখন
আড়ষ্ট, জট পাকানো বা অগোছালো বাক্য সহজ ও সাবলীল করে লিখুন।
টুল খুলুন
কভার লেটার জেনারেটর
পদ, প্রতিষ্ঠান আর আপনার অভিজ্ঞতা থেকে পূর্ণাঙ্গ কভার লেটার।
টুল খুলুন
ইমেইল, চিঠি ও দরখাস্ত লেখক
চাকরির আবেদন, দাপ্তরিক চিঠি, দরখাস্ত আর ফলো-আপ ইমেইল লিখুন।
টুল খুলুন

সচরাচর জিজ্ঞাসা

সিভি আর বায়োডাটার মধ্যে পার্থক্য কী?

সিভিতে মূলত শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকে এবং এটি চাকরির জন্য যোগ্যতা দেখায়। বায়োডাটা ব্যক্তিগত পরিচিতির তালিকা, যেখানে পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানার মতো তথ্য বেশি থাকে। বেসরকারি চাকরিতে সিভিই প্রচলিত; বায়োডাটা চাইলে সেই ছকে দিন।

সিভিতে ছবি দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?

সর্বজনীনভাবে বাধ্যতামূলক নয়। বিজ্ঞপ্তি বা আবেদনের ফরমে ছবি চাইলে দিন। না চাইলে নিজ থেকে দেওয়া জরুরি নয়, আর আন্তর্জাতিক সংস্থা অনেক সময় ছবি ছাড়াই সিভি চায়। দিলে পরিষ্কার, পেশাদার ও সাম্প্রতিক ছবি দিন।

সিভি কত পৃষ্ঠার হওয়া উচিত?

সদ্য স্নাতক বা অল্প অভিজ্ঞতার জন্য এক পৃষ্ঠা যথেষ্ট। মাঝারি অভিজ্ঞতায় এক থেকে দুই পৃষ্ঠা চলে। একাডেমিক বা গবেষণা পদে প্রকাশনা থাকলে দীর্ঘ সিভি স্বাভাবিক। পদের সঙ্গে সম্পর্কহীন তথ্য বাদ দিয়ে সংক্ষিপ্ত রাখুন।

সিভি বাংলায় লিখব, না ইংরেজিতে?

বিজ্ঞপ্তির ভাষা অনুসরণ করুন। ইংরেজি বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজি, বাংলায় হলে বাংলা। ভাষা উল্লেখ না থাকলে বেসরকারি, এনজিও ও বহুজাতিক খাতে ইংরেজি প্রচলিত। বাংলা লিখলে প্রমিত বানান মানুন এবং সংখ্যার ধরন সবখানে এক রাখুন।

সব গাইড