রচনা বা প্রবন্ধের ভূমিকা কীভাবে লিখবেন: নিয়ম, নমুনা ও ক্লিশে এড়ানোর উপায়
ভালো ভূমিকা পাঠককে বিষয়ে টানে, প্রেক্ষাপট দেয় আর মূল বক্তব্য দুই বাক্যে জানায়। স্কুলের রচনায় চার-ছয় বাক্য যথেষ্ট। বাঁধা শুরু এড়িয়ে লেখা শেষ করে ভূমিকা লিখুন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর: ভূমিকায় কী থাকবে
ভূমিকা রচনার প্রবেশদ্বার। এখানে পাঠক জেনে নেন, লেখাটি কী নিয়ে, কেন তা পড়ার মতো, আর লেখক কোন পথে এগোবেন। এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষার রচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবন্ধ, এমনকি ব্লগ বা সংবাদপত্রের উপসম্পাদকীয়, সবখানেই একই তিনটি উপাদান কাজ করে:
- আকর্ষণ: বিষয়ের সঙ্গে পাঠককে যুক্ত করার এক-দুই বাক্য।
- প্রেক্ষাপট: বিষয়টি বোঝার জন্য যতটুকু পটভূমি দরকার, তার বেশি নয়।
- মূল বক্তব্য: লেখাটি কী বলবে বা কী প্রমাণ করবে, তা দুই বাক্যে। ইংরেজিতে একে বলে থিসিস স্টেটমেন্ট; বাংলায় বলা যায় কেন্দ্রীয় বক্তব্য।
স্কুলের রচনায় ভূমিকা সাধারণত চার থেকে ছয় বাক্যের একটি অনুচ্ছেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবন্ধে কখনো একটি অনুচ্ছেদ, কখনো দুটি। নির্দিষ্ট ফরম্যাট, শব্দসীমা বা নম্বর বণ্টন আপনার শিক্ষক, বোর্ডের নির্দেশনা বা বিভাগের নিয়মে থাকলে তা-ই মানুন। এই গাইড লেখার কৌশল নিয়ে, নিয়মের বদলে নয়।
বাংলা রচনায় ভূমিকার প্রচলিত কাঠামো
বাংলাদেশের স্কুল-কলেজে রচনা সাধারণত ভূমিকা, বিষয়বস্তু (বা মূল অংশ, কখনো উপশিরোনামে ভাগ করা) এবং উপসংহার, এই তিন ভাগে লেখা শেখানো হয়। এই কাঠামো ভালো, কারণ এটি পাঠককে পথ দেখায়। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ভূমিকা মুখস্থ বাঁধা বুলি হয়ে যায়, যেমন:
- "নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম।"
- "প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে আসছে।"
- "বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ।"
এ ধরনের বাক্য যে কোনো বিষয়ের আগে বসিয়ে দেওয়া যায়, তাই কোনো বিষয়ের কথাই বলে না। পরীক্ষক বা পাঠক একই বাক্য অসংখ্যবার পড়েছেন। এর বদলে বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি নির্দিষ্ট তথ্য, দৃশ্য বা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করুন।
| উপাদান | কাজ | স্কুলের রচনায় দৈর্ঘ্য |
|---|---|---|
| আকর্ষণ (প্রথম বাক্য) | বিষয়ের সঙ্গে পাঠককে জুড়ে নেওয়া | ১–২ বাক্য |
| প্রেক্ষাপট | বিষয়টি বোঝার জন্য দরকারি পটভূমি | ১–২ বাক্য |
| কেন্দ্রীয় বক্তব্য | রচনা কী বলবে, কোন কোন দিক আলোচনা করবে | ১–২ বাক্য |
ধাপে ধাপে ভূমিকা লেখার পদ্ধতি
ধাপ ১: আগে বক্তব্য ঠিক করুন, তারপর শুরু
ভূমিকা প্রথমে লিখতে বসলে অনেকে আটকে যান। একটি ভালো উপায় হলো আগে ঠিক করা: আমি এই রচনায় ঠিক কী বলতে চাই? সেটি এক বাক্যে লিখে ফেলুন। যেমন, "একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু শোকের দিন নয়, মাতৃভাষার অধিকারের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার দিনও।" এই বাক্য হাতে থাকলে ভূমিকার বাকিটা সাজানো সহজ। রচনার খসড়া আগে বানিয়ে নিতে চাইলে আউটলাইন জেনারেটর ব্যবহার করে একটি কাঠামো পেতে পারেন, তারপর নিজের মতো বদলে নিন।
ধাপ ২: প্রথম বাক্য বেছে নিন
প্রথম বাক্যের জন্য কয়েকটি নিরাপদ পথ:
- নির্দিষ্ট তথ্য: যাচাইযোগ্য কিছু, যা আপনি পাঠ্যবই বা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে জানেন।
- দৃশ্য: পরিচিত একটি ছবি, যেমন ভোরের প্রভাতফেরি, নদীর ঘাটে নৌকার ভিড়।
- প্রশ্ন: সত্যিকারের ভাবনা জাগানো প্রশ্ন, যার উত্তর পাঠক সঙ্গে সঙ্গে জানেন না।
- সাহসী দাবি: এমন কথা, যা আপনি পরে যুক্তি দিয়ে সমর্থন করবেন।
নিয়ম একটাই: নিজে যাচাই না করে সংখ্যা, সাল বা উদ্ধৃতি লিখবেন না। ভুল সংখ্যা ভূমিকাতেই আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। নিশ্চিত না হলে সংখ্যা ছাড়াই বলুন।
ধাপ ৩: প্রেক্ষাপট দিন, কিন্তু ইতিহাসের পাঠ নয়
প্রেক্ষাপট মানে পাঠক বিষয়টি বুঝতে যতটুকু জানা দরকার, ততটুকু। পুরো ইতিহাস বলে ফেললে ভূমিকা ফুলে যায় এবং মূল অংশের জায়গা দখল করে। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: এই বাক্যটি না থাকলে কি পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হবে? না হলে বাদ দিন।
ধাপ ৪: শেষ বাক্যে কেন্দ্রীয় বক্তব্য
ভূমিকার শেষ এক-দুই বাক্যে স্পষ্ট করুন রচনা কোথায় যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রবন্ধে আলোচনার দিকগুলোর নাম করা যায়: "এই লেখায় আমরা দেখব ... , ... এবং ... "। ছোট রচনায় একটি বাক্যই যথেষ্ট।
ধাপ ৫: ভূমিকা লিখুন শেষে বা অন্তত শেষে আবার দেখুন
পুরো রচনা লিখে ফেললে আপনি জানেন শেষ পর্যন্ত কী প্রমাণ করেছেন। তখন ভূমিকা মিলিয়ে নিন, যাতে ভূমিকার প্রতিশ্রুতি আর লেখার বিষয়বস্তু একই থাকে। পরীক্ষার হলে সময় কম থাকলে ভূমিকার জন্য জায়গা ফাঁকা রেখে মূল অংশ আগে লেখাও একটি কাজের কৌশল, তবে এটি আপনার অভ্যাস ও সময়ের ওপর নির্ভর করে।
তিনটি নমুনা ভূমিকা: আগে ও পরে
নিচের প্রতিটি উদাহরণে "আগে" অংশ প্রচলিত বাঁধা ধাঁচ, "পরে" অংশ কাজের মতো বদলানো রূপ। তথ্যের দাবিগুলো ইচ্ছে করে সাধারণ রাখা হয়েছে। নিজের রচনায় সংখ্যা বা সাল বসালে অবশ্যই পাঠ্যবই বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে মিলিয়ে নেবেন।
নমুনা ১: নদী
আগে:
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। নদী আমাদের জীবনে অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাচীনকাল থেকেই নদীর তীরে সভ্যতা গড়ে উঠেছে। তাই আমি আজ নদী সম্পর্কে লিখব।
পরে:
বর্ষার ভোরে পদ্মা বা মেঘনার পাড়ে দাঁড়ালে বোঝা যায়, এ দেশের জীবন নদীর সঙ্গে কতটা জড়ানো। নদী এখানে শুধু জলের ধারা নয়; কৃষি, যাতায়াত, মাছ ও মানুষের বসতি, সবকিছুর সঙ্গে এর যোগ। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার পলিতে গড়া এই বদ্বীপে নদীর ভাঙাগড়া তাই মানুষের জীবনেরও ভাঙাগড়া। এই রচনায় নদীর উপকারিতা, নদীভাঙন ও দূষণের সমস্যা এবং নদী রক্ষার উপায় আলোচনা করা হবে।
কেন "পরে" ভালো: নির্দিষ্ট দৃশ্য দিয়ে শুরু, নদীর ভূমিকা কয়েকটি দিকে ভাগ করে দেখানো, আর শেষে আলোচনার তিনটি দিকের কথা বলা। "পরে" অংশে পাঠ্য বইয়ের তথ্য ছাড়া নতুন সংখ্যা ব্যবহার করা হয়নি।
নমুনা ২: ডিজিটাল বাংলাদেশ
আগে:
বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তি ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারি না। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের স্বপ্ন। এই রচনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা করব।
পরে:
মোবাইল ফোনে বিল পরিশোধ, অনলাইনে ভর্তির আবেদন বা ঘরে বসে সরকারি সেবার তথ্য পাওয়া, এসব এখন অনেক মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা। "ডিজিটাল বাংলাদেশ" ধারণাটি মূলত এমন একটি পরিবেশ গড়ার কথা বলে, যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি শাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে সহজ ও সবার নাগালে আনে। তবে প্রযুক্তির সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি; ইন্টারনেট সংযোগ, ডিজিটাল দক্ষতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন এখনো গুরুত্বপূর্ণ। এই রচনায় ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা, সীমাবদ্ধতা এবং সামনে এগোনোর উপায় আলোচনা করা হবে।
কেন "পরে" ভালো: দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু, ধারণাটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা, এবং ভারসাম্যপূর্ণ কেন্দ্রীয় বক্তব্য: শুধু প্রশংসা নয়, সীমাবদ্ধতার কথাও। অনুচ্ছেদে কোনো অপ্রমাণিত পরিসংখ্যান নেই।
নমুনা ৩: একুশে ফেব্রুয়ারি
আগে:
একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে ভাষা শহিদরা প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁদের কথা আমরা কখনো ভুলব না।
পরে:
প্রতি বছর একুশের ভোরে খালি পায়ে শহিদ মিনারের দিকে এগিয়ে যাওয়া মানুষের সারি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, পরিচয়ের প্রশ্নও। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে প্রাণ দিয়েছিলেন। পরে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যার ফলে এই স্মৃতি এখন বিশ্বের নানা ভাষার মানুষের অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত। এই রচনায় ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, একুশের তাৎপর্য এবং আমাদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হবে।
কেন "পরে" ভালো: সংবেদনশীল বিষয়ে দৃশ্য ও শ্রদ্ধা, পরিচিত এবং যাচাইযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য, শেষে স্পষ্ট দিকনির্দেশ। শহিদদের নাম, সাল ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, এই তথ্যগুলো পাঠ্যবই থেকে মিলিয়ে নেওয়া সহজ।
একটি ছোট অনুশীলন: যে কোনো বিষয় নিয়ে প্রথমে তিনটি আলাদা প্রথম বাক্য লিখুন, একটি তথ্য দিয়ে, একটি দৃশ্য দিয়ে, একটি প্রশ্ন দিয়ে। তারপর যেটি সবচেয়ে নির্দিষ্ট ও বিষয়ের কাছাকাছি মনে হয়, সেটি রাখুন। এভাবে কয়েকবার করলে বাঁধা বুলির দিকে হাত যাওয়ার অভ্যাস কমে আসে, আর ভূমিকা লিখতে বসে আটকে থাকার সময়ও কমে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবন্ধ বা অ্যাসাইনমেন্টে ভূমিকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিকা অনেক সময় বেশি যুক্তিনির্ভর হয়। এখানে পাঠক শিক্ষক, তাই তিনি দেখতে চান আপনি প্রশ্নটি বুঝেছেন কি না এবং একটি নির্দিষ্ট অবস্থান নিয়েছেন কি না। কয়েকটি পরামর্শ:
- প্রশ্নটা ঘুরিয়ে লিখুন: অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন হুবহু তুলে দেবেন না। নিজের ভাষায় সমস্যাটা বলুন।
- কেন্দ্রীয় বক্তব্য স্পষ্ট রাখুন: "এই প্রবন্ধে যুক্তি দেওয়া হবে যে ..." ধরনের বাক্য ব্যবহার করুন। শুধু "এই প্রবন্ধে আলোচনা করা হবে" যথেষ্ট নয়, কারণ তাতে আপনার অবস্থান বোঝা যায় না।
- সূত্র থাকলে উল্লেখ করুন: তথ্য বা তত্ত্ব ধার করলে বিভাগের নির্দেশিত সাইটেশন রীতি (যেমন APA বা MLA) মেনে সূত্র দিন। সাইটেশন জেনারেটর রেফারেন্সের খসড়া তৈরিতে সাহায্য করে, তবে বিভাগের রীতির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া আপনার কাজ।
- ভূমিকায় পুরো গল্প ফাঁস করবেন না: দিকনির্দেশ দিন, সব উত্তর নয়।
কেন্দ্রীয় বক্তব্য কীভাবে লিখবেন, তা বিস্তারিত দেখুন থিসিস স্টেটমেন্ট লেখার গাইডে, আর রচনা শেষ করার নিয়ম জানতে পড়ুন উপসংহার কীভাবে লিখবেন।
প্রচলিত ভুল, যা ভূমিকা দুর্বল করে
- বাঁধা বুলি দিয়ে শুরু: "প্রাচীনকাল থেকে", "বর্তমান যুগে", "আমাদের দেশে" ধরনের শুরু। এর বদলে বিষয়ের নির্দিষ্ট কিছু দিয়ে শুরু করুন।
- বিষয়ের নাম ঘুরিয়ে বলা: "আজ আমি নদী সম্পর্কে লিখব" ভূমিকা নয়, ঘোষণা মাত্র।
- অতিরিক্ত দৈর্ঘ্য: ভূমিকা রচনার এক-চতুর্থাংশের বেশি হয়ে গেলে মূল অংশ কমে যায়।
- মূল অংশের কথা আগেই বলে দেওয়া: ভূমিকায় সব যুক্তি ও উদাহরণ খরচ করলে মূল অংশে বলার কিছু থাকে না।
- যাচাই না করা সংখ্যা বা উদ্ধৃতি: সূত্র ছাড়া পরিসংখ্যান বা অন্যের নামে বানানো উক্তি। ভুল হলে পুরো লেখা সন্দেহজনক দেখায়।
- কেন্দ্রীয় বক্তব্য না থাকা: ভূমিকা পড়ে পাঠক বুঝলেন না রচনা কী বলতে চায়।
- বানান ও যতিচিহ্নের ভুল: "সরকারী", "ইংরেজী", "বাড়ী" বা কমার আগে ফাঁক। প্রমিত বানানে "সরকারি", "ইংরেজি", "বাড়ি" লেখা হয়। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানের নিয়ম মেনে চললে ছোট ভুলের কারণে নম্বর কাটা বা ভালো লেখার ছাপ নষ্ট হওয়া এড়ানো যায়।
ভূমিকা পাঠানোর আগে চেকলিস্ট
- প্রথম বাক্যটি কি এই বিষয়ের জন্যই লেখা, অন্য কোনো বিষয়ের আগে বসালেও কি চলত?
- প্রেক্ষাপটের প্রতিটি বাক্য কি বোঝার জন্য সত্যিই দরকারি?
- শেষ দুই বাক্যে কি কেন্দ্রীয় বক্তব্য আর আলোচনার দিক স্পষ্ট?
- ভূমিকার প্রতিশ্রুতি আর মূল অংশের বিষয় কি মিলছে?
- প্রতিটি তথ্য, সাল ও নাম কি নিজে যাচাই করেছি?
- ভূমিকা কি রচনার ছোট অংশ, আর চার থেকে ছয় বাক্যের মধ্যে?
- বানান ও যতিচিহ্ন কি প্রমিত রীতিতে?
AdeptWrite-এর টুল কীভাবে সাহায্য করতে পারে
AdeptWrite বিনামূল্যে ব্যবহার করার মতো লেখার টুলের সংগ্রহ। প্রতি ব্যবহারে টেক্সটের সীমা ৬,০০০ অক্ষর। টুলগুলো সহায়ক, কিন্তু আপনার নিজের বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়। জমা দেওয়ার আগে লেখা আপনার নিজের মতো করে দেখে নেওয়া জরুরি, বিশেষ করে পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্টের ক্ষেত্রে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
- অনুচ্ছেদ জেনারেটর: মূল ভাবনা দিলে ভূমিকা, মূল অংশ বা উপসংহারের মোডে একটি অনুচ্ছেদের খসড়া দেয়। খসড়াকে ছাঁচ ধরে নিজের তথ্য ও ভাষা বসান।
- আউটলাইন জেনারেটর: রচনা, নিবন্ধ, থিসিস বা প্রেজেন্টেশনের কাঠামো সাজাতে সাহায্য করে।
- বাক্য সংশোধন ও পুনর্লিখন: আড়ষ্ট বা জট পাকানো প্রথম বাক্য সহজ করতে কাজে লাগে।
- বাংলা বানান চেকার ও বাংলা গ্রামার চেকার: ভূমিকার প্রমিত বানান ও যতিচিহ্ন দেখে নিন। স্বয়ংক্রিয় পরামর্শ সব ভুল ধরে না, তাই শেষবার নিজে পড়ুন।
- বাংলা ওয়ার্ড কাউন্টার: ভূমিকা ঠিক কত শব্দের হলো, তা দ্রুত গুনে দেখুন।
আরও পড়ুন: অনুচ্ছেদ কত বড় হওয়া উচিত।
টুলগুলো ব্যবহার করুন
সচরাচর জিজ্ঞাসা
রচনার ভূমিকা কত বাক্যের হওয়া উচিত?
স্কুলের রচনায় সাধারণত চার থেকে ছয় বাক্যের একটি অনুচ্ছেদ যথেষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবন্ধে একটি বা দুটি অনুচ্ছেদ হতে পারে। শিক্ষক বা বোর্ড নির্দিষ্ট শব্দসীমা বেঁধে দিলে সেটাই মানুন, আর ভূমিকাকে রচনার ছোট অংশ রাখুন।
ভূমিকা কি রচনা লেখার আগে লিখব, না পরে?
দুভাবেই চলে। আগে একটি কেন্দ্রীয় বক্তব্য ঠিক করে নিন, তারপর ভূমিকা লিখুন; সম্ভব হলে মূল অংশ শেষ হলে ভূমিকা আরেকবার মিলিয়ে নিন, যাতে প্রতিশ্রুতি আর লেখার বিষয় এক থাকে। পরীক্ষার হলে সময় অনুযায়ী যে ক্রম সুবিধার, সেটাই বেছে নিন।
ভূমিকায় কি প্রবাদ বা উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করা যায়?
যায়, যদি উদ্ধৃতিটি সত্যিই বিষয়ের সঙ্গে খাপ খায় এবং আপনি এর উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত থাকেন। যে কোনো বিষয়ে বসিয়ে দেওয়া যায় এমন বাঁধা প্রবাদ বা অনিশ্চিত উক্তি এড়িয়ে চলুন, কারণ ভুল সূত্র লেখার বিশ্বাসযোগ্যতা কমায়।
ভূমিকা আর উপসংহারের পার্থক্য কী?
ভূমিকা পাঠককে বিষয়ে টেনে আনে, প্রেক্ষাপট দেয় এবং কেন্দ্রীয় বক্তব্য জানায়। উপসংহার আলোচনার সারকথা টানে এবং বক্তব্যের তাৎপর্য বা করণীয় তুলে ধরে। দুটিতে একই বাক্য না বসিয়ে ভূমিকার প্রশ্নের উত্তর উপসংহারে দিন।
সম্পর্কিত গাইড
- উপসংহার লেখার নিয়ম: রচনা, প্রবন্ধ ও থিসিসে কীভাবে লিখবেন সুন্দর উপসংহার — ভালো উপসংহারে তিনটি কাজ থাকে: মূল বক্তব্য নতুন ভাষায় আবার বলা, যুক্তির সারকথা দেওয়া এবং শেষে একটি তাৎপর্য বা করণীয় রা…
- থিসিস স্টেটমেন্ট (কেন্দ্রীয় বক্তব্য) কী এবং কীভাবে লিখবেন: সূত্র, নমুনা ও চেকলিস্ট — থিসিস স্টেটমেন্ট বা কেন্দ্রীয় বক্তব্য হলো পুরো লেখার মূল দাবি, এক-দুই বাক্যে লেখা। এটি তথ্য নয়, বরং এমন অবস্থান যার বি…
- একটি অনুচ্ছেদে কয়টি বাক্য থাকা উচিত? রচনা, পরীক্ষা, নিউজ ও ওয়েব লেখায় আদর্শ দৈর্ঘ্য — একটি অনুচ্ছেদে সাধারণত তিন থেকে ছয়টি বাক্য থাকে, প্রায় ৫০ থেকে ১২০ শব্দ। আসল নিয়ম: এক অনুচ্ছেদে এক মূল ভাবনা। পরীক্ষা…
- বাংলা বানানের নিয়ম: বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানের সহজ নির্দেশিকা (উদাহরণসহ) — বাংলাদেশে প্রমিত বানানের মানদণ্ড বাংলা একাডেমির নিয়ম। মূল কথা: তৎসম শব্দ অপরিবর্তিত, অতৎসম শব্দে হ্রস্ব ই-উ (বাড়ি, সরক…
- সারাংশ লেখার নিয়ম: ধাপ, নমুনা এবং সারাংশ, সারমর্ম ও ভাবসম্প্রসারণের পার্থক্য — সারাংশ হলো গদ্য অনুচ্ছেদের মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় ছোট করে লেখা। মূল বাক্য চিহ্নিত করুন, উদাহরণ বাদ দিন, প্রায় এক-তৃতী…